পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার! ম্যাচের ৮৫ মিনিটে এসে পাল্টে গেল পুরো দৃশ্যপট। শুরুতে দল ফিরল সমতায়। এরপর এগিয়ে গেল লিওনেল মেসির দল। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু সেমিফাইনালে আটকে গেল তারা। এখন তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে নামবে ইংলিশরা শক্তিশালী ফ্রান্সের সঙ্গে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আরেকটি রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ ১০ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে মাতেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির একটি বক্সে বসে সেই আনন্দে শামিল হন তার স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোও। অন্যদিকে আরেকটি বড় আসরের স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা!
প্রথমার্ধে আজ দুই দলই আক্রমণে খুব বেশি ধার দেখাতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে শারীরিক লড়াই ছিল চোখে পড়ার মতো। বিরতির আগেই দুই দলের মিলিয়ে ১১টি ফাউল হয় এবং গোলমুখে তেমন কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেননি মেসি কিংবা হ্যারি কেইন।
বিরতির পর ম্যাচে গতি বাড়ায় দুই দল। ৫৫ মিনিটে ডান দিকের আক্রমণ থেকে মর্গান রজার্সের ক্রসে ব্যাকপোস্টে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে দলকে এগিয়ে রাখেন। নিকো গঞ্জালেজের হেড, হুলিয়ান আলভারেজের শট এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা, সবই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।
সময়ের কাঁটা যখন ইংল্যান্ডের পক্ষে, তখনই বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। ৮৫ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। শেষ মুহূর্তের এই দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
পুরো নকআউট পর্বজুড়েই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে এগিয়ে আসার পর সেমিফাইনালেও পিছিয়ে পড়েছিল তারা। তবে প্রতিবারের মতো এবারও শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আগামী রোববারের লড়াইয়ে শিরোপা ধরে রাখতে পারলে ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।