মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীসহ ১৪ জনের বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ চিকিৎসা কার্যক্রমে একজনকে সম্পূর্ণ সুস্থ পাওয়া গেছে।
এছাড়া দুইজনকে প্রয়োজনীয় চশমা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। বাকি ১১ জনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী চোখের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন জানায়, অস্ত্রোপচারের বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করেন। চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য সুফল সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে তিনজনের চোখের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনটি অস্ত্রোপচারই সফল হয়েছে। আগামীকাল তাদের চোখের ব্যান্ডেজ খুলে দেওয়া হবে। এরপর তাদের দৃষ্টিশক্তির উন্নতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এদিকে, অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এমন বাকি আটজনের ক্ষেত্রেও পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে তাদের শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি ও ফলাফল পর্যবেক্ষণের পর পরিবারের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বাকি রোগীদের অস্ত্রোপচার করা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, সফল অস্ত্রোপচারের ইতিবাচক ফলাফল দেখে পরিবারের অন্য সদস্যরাও চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হবেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।
বন্যায় রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরসংলগ্ন দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। চারদিকে বন্যার পানি থাকায় তারা দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটান। জীবিকার কোনো সক্ষমতা না থাকায় তারা সম্পূর্ণভাবে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তাদের করুণ অবস্থার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।
এরপর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষ এবং পাঁচটি অন্ধ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। সেই মানবিক উদ্যোগেরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন পোশাকও প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।