শনিবার গোয়াইনঘাটে চাওড়াতল চা বাগান থেকে এক যুবকের, গোলাপগঞ্জে আমগাছে ঝুলে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির, বিশ্বনাথের বাসিয়া খাল থেকে এক শিশুর, মাধবপুরে ড্রেন থেকে আরও এক যুবকের এবং চুনারুঘাটে নিজ বসতঘর থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পৃথক ঘটনায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার বিকেলে গোয়াইনঘাটের চাওড়াতল চা বাগান থেকে চৈতন্য গোয়ালা (৪৩) নামের যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত যুবক চাওড়াতল চা বাগানে শ্রমিক ও বাসিন্দা। এ ঘটনায় সুমন প্রধান (৪২) নামে একজনকে আটকও করা হয়।
পুলিশ জানায়, চৈতন্য গোয়ালা ও সুমন প্রধান গোয়াইনঘাট উপজেলার চাওড়াতল চা বাগানে একে অপরের প্রতিবেশী এবং তারা বাগানে চা শ্রমিকের কাজ করেন। ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে সুমন প্রধানের মেয়েকে চৈতন্য গোয়ালা উত্যক্ত করেন। এ ঘটনার জেরে দু’জনের মধ্যে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে সুমন প্রধানের ঘুষিতে চৈতন্য গোয়ালা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘চাওড়াতল চা বাগানে একটি মেয়েকে উত্যক্তের ঘটনায় হত্যাকান্ডর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে আটক করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একইদিন দুপুরে গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামে আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আমান উদ্দিন সেলিম (৪৪) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আমান উদ্দিন সেলিম উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের মৃত মুছাব্বিরের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে লাশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিশ্বনাথে নিখোঁজের পরদিন আবিদ আহমদ (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকালে দেওকলস ইউনিয়নের মজনপুর গ্রামে বাড়ির পাশে বাসিয়া খালে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত আবিদ আহমদ ওই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে। জানা যায়, নিহত আবিদ শুক্রবার ললিপপ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
বিশ্বনাথ থানার উপ পরিদর্শক এসআই বাবুল সিংহ বলেন, শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছি। শিশুটি পানিতে ডুবে মারা গেছে, পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অপরদিকে শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের মাধবপুরের সুরমা চা বাগানের ২০ নম্বর ডিভিশনের ১ নম্বর সেকশনের নিচু ড্রেন থেকে ৩০ বছর বয়েসি এক অজ্ঞাত যবুকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, স্থানীয় কাছ থেকে খবর পেয়ে স্থানে সুরমা চা বাগানে পড়ে থাকা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। তবে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
একইদিন দুপুরে চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে বিউটি আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বিউটি আক্তার ওই গ্রামের ওমানপ্রবাসী ইব্রাহিম মিয়ার স্ত্রী।
হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মাধবপুর সার্কেল) এ কে এম সালিমুল হক জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক দুঘটনায় প্রাণ যায় তাদের।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের উমেদপুর এলাকায় অটোরিকশা চাপায় জোহা আক্তার ওরফে ইতি মনি (৬) নামে এক শিশু প্রাণ হারায়। নিহত শিশুটি ওই গ্রামের মো. শফিক আলমের মেয়ে।
এ ঘটনায় অটোরিকশা চালক চালক সৈয়দ হোসেনকে (২১) আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন জনতা। একইদিন দুপুরে দিরাইয়ে গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন (৩৮) নামে এক ইটভাটা ম্যানেজার নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি পৌর এলাকার সুজানগরে ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার রাজ্জাক মিয়ার ছেলে।
তিনি দিরাই উপজেলার শরিফপুর গ্রামের ‘কে.ভি অটোব্রিক্স’নামক ইটভাটার ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।ঘটনার পর থেকে চালক পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী ও দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, অটোরিকশা চালক সৈয়দ হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে শনিবার ভোরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ভূনবীর ইউনিয়নের সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় বাস-পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান লোকমান মিয়া (২২) নামে এক পিকআপ চালক।
নিহত লোকমান মিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম শ্রীমঙ্গল লালবাগ এলাকার শাহ আলমের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও পিকআপ ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।