আজ ,

জঞ্জালমুক্ত হচ্ছে ঘাসিটুলা পুকুর, হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
জঞ্জালমুক্ত হচ্ছে ঘাসিটুলা পুকুর, হবে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে

ঘাসিটুলার পুকুর অবশেষে জঞ্জালমুক্ত হয়ে ফিরে আসছে ফেলা আসা পুরনো ঐতিহ্যে।

আবর্জনার ভাগাড়, কচুরিপানার জজ্ঞালে প্রাণহারা ঘাসিটুলার পুকুর অবশেষে জঞ্জালমুক্ত হয়ে ফিরে আসছে ফেলা আসা পুরনো ঐতিহ্যে। প্রায় দুইশো শতক আয়তনের ঘাসিটুলার এই পুকুর পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। বিশাল আয়তনের এই পুকুরের জঞ্জাল সাফ করে চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

এতে করে পুকুরটি আগের রূপ ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য এটি হয়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব উন্মুক্ত স্থান। এমনটি আশা করছে সিসিক কর্তৃপক্ষ।

রোববার নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা কবরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় পুকুরটির পরিচ্ছন্নতা ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়।

দীর্ঘদিন ধরে আগাছা, কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে থাকায় একসময়কার নান্দনিক এই জলাশয়টি পরিবেশ দূষণের উৎসে পরিণত হয়েছিল। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে এটি মশার নিরাপদ আবাসস্থলেও পরিণত হয়। একসময় শীত মৌসুমে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর থাকা পুকুরটি পরিবেশ দূষণের কারণে হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক রূপ।

সিসিক জানিয়েছে, নগরীর পরিত্যক্ত জলাশয়গুলো উদ্ধার করে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণে ব্যবহারের লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘাসিটুলা পুকুর পুনরুদ্ধার এরই অংশ।

পরিদর্শনে গিয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “একসময় নগরীতে অসংখ্য দিঘি, পুকুর ও জলাশয় ছিল, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষেরও উপকারে আসত। এসব জলাশয়কে যতটা সম্ভব আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এর আগে আরও একটি পুকুর উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।”

তিনি জানান, পুকুরটি উদ্ধার শেষে চারপাশে ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং নির্মাণ করা হবে। এতে নগরবাসী নিরাপদে হাঁটাহাঁটি ও নির্মল পরিবেশ উপভোগের সুযোগ পাবেন। শীত মৌসুমে আবারও অতিথি পাখির আনাগোনা বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “শুধু সরকারি উদ্যোগে জলাশয় রক্ষা সম্ভব নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। কেউ যাতে পুনরায় পুকুরে ময়লা-আবর্জনা না ফেলেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জলাশয় রক্ষা প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের দায়িত্ব।”

উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন প্রমুখ।