আজ ,

চাকরির পরীক্ষায় বাড়ছে মৌখিকের নম্বর, যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ণ
চাকরির পরীক্ষায় বাড়ছে মৌখিকের নম্বর, যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে নতুন বিধিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকারের কাছে এটিকে তুলনামূলকভাবে ভালো ব্যবস্থা মনে হয়েছে বলেই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাইভায় নম্বর বেশি রাখলে পক্ষপাত বা কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ বাড়ে—এমন সমালোচনার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ভাইভা যেহেতু বিষয়ভিত্তিক ও মূল্যায়ননির্ভর, সেখানে কাউকে পছন্দ বা সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে। তবে সরকারের বিশ্বাস, সঠিকভাবে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে এর মাধ্যমে আরো ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘সরকার আইনগতভাবে কোনো অন্যায় করেনি। আইনগতভাবে করতে পারে। সরকারের মনে হয়েছে, এর মাধ্যমেই বেটার কিছু সম্ভব।’

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর উদ্যোগ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ভাইভা কি পরীক্ষা না?’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি মেডিক্যালে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে লিখিত পরীক্ষার তুলনায় দ্বিগুণ নম্বরের ভাইভা দিতে হয়েছে।

তার ভাষায়, মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্যাটার্নে ভাইভাই গুরুত্বপূর্ণ।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা চাকরি মানে শুধু বইয়ের নলেজ না।’ লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার পাশাপাশি চাকরিতে ভালো করার জন্য আরো কিছু দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রয়োজন, যা ভাইভার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নিজের সাম্প্রতিক ভাইভা নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এমন কিছু প্রার্থীকে তিনি পেয়েছেন, যারা লিখিত পরীক্ষায় যথেষ্ট ভালো না করলেও ভাইভায় তার কাছে যোগ্য মনে হয়েছে। তার বিবেচনায়, তাদের চাকরিতে নেওয়া উচিত।

বিসিএসের উদাহরণ দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসন ক্যাডার সাধারণত প্রার্থীদের প্রথম পছন্দের একটি। কিন্তু একজন প্রশাসকের শুধু লিখিত পরীক্ষার জ্ঞান থাকলেই হয় না; চাকরিতে ভালো করার জন্য আরো কিছু অ্যাপটিটিউড বা সক্ষমতা প্রয়োজন। তার মতে, এসব বিষয় ভাইভার মাধ্যমে ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন ধারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ চাইলে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে এবং তিনি এসব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত।

নিয়োগের পর কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কোনো নিয়োগের পর যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, সেটা নিয়েও যেন আপনারা কথা বলেন। এই অনিয়ম যদি হয়, সেটাকে নিশ্চয়ই আপনারা তুলে ধরবেন।’