ভারী বৃষ্টিপাতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ছবি: চ্যানেল 24
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সিলেটসহ দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় (৩ দিন) ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সেই সঙ্গে আগামী ৫ দিনে নদ-নদীর পানি বেড়ে আরও কয়েকটি জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
দেশের নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের অবস্থান তুলে ধরে এতে বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সুরমা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
এই অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল হ্রাস পেলেও আগামী ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্ৰহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৫ দিন এসব নদ-নদীর পানির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে এই সময়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী, মুহুরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী একদিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।