আজ ,

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় ১২৩ জনের মৃত্যু

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় ১২৩ জনের মৃত্যু

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনের বেশি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫৭০ জন।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেক মানুষ। আহত ও আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। খবর সিএনএনের।

ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর কম্পন দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলের রিসারালদা প্রদেশে।

কফি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এই প্রদেশের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কলম্বিয়ার অন্যতম প্রধান শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদে জানান, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১০টি ভবনে উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ক্যালিতে এখন পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে যুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ধসের শব্দ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, সেটিকে বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছে। পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। প্রতিবেশীরা একসঙ্গে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে। তবে উদ্ধারকাজের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

অন্যদিকে, রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় ভূমিকম্পের পর একটি ভবনের ফাটলধরা সামনের অংশ ধসে পড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনটি ধসে পড়ার সময় চারদিকে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষে তৈরি হয় ঘন মেঘ। আতঙ্কে রাস্তায় থাকা মানুষজন দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ভেঙে পড়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা চোকো প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানান, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি ঘটেছে, বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশক সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক দিন পরই এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার প্রশাসন। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।