তিনি বর্তমানে সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ লাকড়িপাড়া আকবরী জামে মসজিদে তারাবির নামাজে ইমামতি করছেন। এছাড়াও এই মসজিদে তিনি সানী ইমামের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬নং ফতেপুর ইউপি’র সপ্তমখন্ড গ্রামের মাওলানা সুনাফর আলীর ছেলে হাফেজ আব্দুল কাদির। ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এই হাফেজে কুরআন।
মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম।
মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব। হেরা গুহায় সূচনা এ কুরআন।
ইকরা বিসমি দিয়ে সূচনা। বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল ঠিকানা। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা। হেরার জ্যোতি।
কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান।
এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে উদ্ভাসিত। হবে সুবাসিত সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ইমান হবে শাণিত। হবে তেজদ্বীপ্ত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ইমানদার তারা যখন আল্লাহর নাম নেয়, নরম হয় তাদের অন্তর।
আর যখন তাদের সামনে কুরআন পাঠকরা হয়, তাদের ঈমান সজিব হয়ে উঠে। তারা মাওলা প্রেমে আত্মনিবেদিত হয়।-সুরাআনফাল: ২
রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরে ঘরে। তারাবির নামাযে পঠিত হয় কুরআন।
পহেলা রোযা থেকে একাধারে ২৭ রোযা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেযে কুরআনদের কণ্ঠে ধরণীত খোদার বানী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়।
এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।
মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ আব্দুল কাদিরের কথা তুলে ধরছি।
হাফেজ আব্দুল কাদির প্রথমেই হিফজের সবক শুরু করেন জামিয়া ইসলামিয়া মিসবাহুল উলুম শ্যামপুর বাগেরখাল হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে।
এরপর জামিয়া ইসলামিয়া লামা’লংপুর হাফিজিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে পড়ালেখা করেন। তিন বছরেই পবিত্র কুরআনুল কারিমের হেফজ সম্পন্ন করেন তিনি
হিফজ তাকমিলের বেফাক বোর্ডে পরীক্ষার পর তাকমিলের পরীক্ষা দেন কানাইঘাট দারুল উলুম মাদরাসায়।
২০০৫ সাল থেকে নিজ এলাকার মসজিদে তারাবির ইমামতির মাধ্যমে তাঁর প্রথম কুরআনের খেদমত শুরু। দ্বিতীয় বছর পাশের গ্রামে, তৃতীয় বছর লামালংপুর হাফিজিয়া মাদরাসা মসজিদে, বৃহত্তর খাদিমপাড়া ইউনিয়নে পলিয়া মাজারগাঁও, খুনির চক, খাদিমপাড়া ২ নং রোড মসজিদে, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট মসজিদে তিনি ইমামতি করেন।
পরবর্তীতে পাঠানটুলা গোয়াবাড়ি বাজার মসজিদে, বালুচর সোনার বাংলা জামে মসজিদে টানা ৪ বছর, এবং বর্তমানে কর্মরত শিবগঞ্জ আকবরি জামে মসজিদে ৩ বছর ধরে খতমে তারাবিতে ইমামতি করছেন হাফেজ আব্দুল কাদির।
২০১৬-১৭ সালে দক্ষিণ কাছ হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। শিক্ষকতা করেছেন জামিয়া ইসলামিয়া ফরিদাবাদ এয়ারপোর্ট সিলেট, নিজ এলাকার মাদারাসায়আম্বরখানাস্থ মানারুল হুদায়।হাফেজ আব্দুল কাদির বলেন, আমি কুরআনের খেদমতের মাধ্যমে যে স্বাচ্ছন্দ্য পাই, তা আর কোনো কর্মে পাই না। মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত কুরআনের খাদিম হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।