সিলেটের বহুল আলোচিত দক্ষিণ সুরমার কদমতলি বাস টার্মিনাল এলাকার একটি জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়েছে র্যাব-৯।
এ সময় অনলাইন জুয়া খেলার দায়ে ৭ জনকে আটক করে র্যাব-৯’র সদস্যরা।
আটককৃতরা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুর রহমান (৫০), সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর গ্রামের শাহেদ মিয়ার ছেলে জসিম (২২), মোগলাবাজার থানাধীন কুচাই এলাকার আঃ রহমানের ছেলে জাবেদ আহামেদ (২৭), বালাগঞ্জ উপজেলার নবীনগর গ্রামের মৃত আঃ সোবাহানের ছেলে আঃ রফিক (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ডুবা চাইল গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মোঃ সোহাগ মিয়া (৩০), দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার মৃত নুরুজামানের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৩) এবং ওসমানীনগরের তাজপুর গ্রামের মৃত তারিফ উল্লাহর ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিন (৪০)।
মঙ্গলবার র্যাব-৯’র মিডিয়া শাখা থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব-৯ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল সোমবার বিকেলে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে জানতে পারে, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভার্থখল কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চক্র অনলাইনে জুয়া খেলছে। খবর পেয়ে বিকাল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালানো হলে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছেন। তারা ‘জুয়াই তীর রেজাল্ট’, ‘শিলং তীর রেজাল্ট’, ‘নাইট তীর’, ‘নাইট ইন্ডিয়া’, ‘পয়েন্ট চার্ট শিলং তীর’, ‘সিকে চার চার চার’, ‘সেভেন সি সেভেন সেভেন’, ‘বাজি নাইন নাইন নাইন’, ‘বাজি ক্যাসিনো’, ‘এমসিডব্লিউ ক্যাসিনো’, ‘স্লটস গেম’সহ বিভিন্ন মাধ্যমে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে জুয়া খেলার কাজে ব্যবহৃত ৪টি স্মার্ট মোবাইল ফোন এবং অনলাইনে জুয়ার সিরিয়াল নম্বরযুক্ত ৮টি টোকেন জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মোবাইল ফোন যাচাই করে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাদেরকে জব্দকৃত আলামতসহ সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।