শব্দটি অনেকের কাছে অভিশাপের মতো। কারও কাছে এটি সন্তানের অবহেলার প্রতীক, আবার কারও কাছে জীবনের নির্মম বাস্তবতা। ধর্মপ্রাণ সিলেটের মানুষ সাধারণত চান না, তাঁদের মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হোক। তাঁরা বিশ্বাস করেন, মা-বাবার শেষ বয়সের দায়িত্ব সন্তানই পালন করবে। তাঁদের সেবাযত্নে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে থাকাই আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের মূল্যবোধ।
কিন্তু একবার ভেবে দেখুন,যাঁদের কোনো সন্তান নেই? অথবা যাঁদের একমাত্র সন্তান পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন? তাঁদের শেষ আশ্রয় কোথায়?
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কত নিঃসন্তান বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অসহায়ভাবে চিকিৎসাধীন থাকেন। আবার কত বৃদ্ধের মরদেহ দীর্ঘ সময় লাশঘরে পড়ে থাকে, কারণ তাঁদের স্বজন খুঁজে পাওয়া যায় না। শহরের ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড কিংবা ছাউনির নিচে কত মা-বাবা বৃষ্টি-রোদ সহ্য করে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের চোখের দিকে একবার তাকালেই অসহায়ত্বের গভীরতা অনুভব করা যায়।
তাঁরাও তো মানুষ। তাঁরাও দুবেলা পেট ভরে খেতে চান, নিরাপদ একটি ঘরে থাকতে চান, সম্মান নিয়ে জীবনের শেষ সময়টুকু কাটাতে চান।
যদি সরকার, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান এবং বিত্তবান মানুষ এগিয়ে আসেন, তাহলে এই করুণ দৃশ্য অনেকটাই বদলে যেতে পারে। একটি মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র বা বৃদ্ধাশ্রম শুধু অবহেলিত মা-বাবার জন্য নয়; এটি হতে পারে নিঃসন্তান, গৃহহীন, অসহায় ও স্বজনহীন প্রবীণদের নিরাপদ আবাস।
তাই বৃদ্ধাশ্রমকে শুধু নেতিবাচক দৃষ্টিতে না দেখে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ভাবা প্রয়োজন। যাঁদের সত্যিই আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাঁদের জন্য হলেও সিলেটে একটি আধুনিক, সেবামূলক ও মানবিক বৃদ্ধাশ্রম সময়ের দাবি।
সিলেটে এমন একটি মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হোক, যেখানে কোনো অসহায় প্রবীণ মানুষ ফুটপাতে নয়, সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাতে পারবেন।
লেখক: প্রাবন্ধিক, তরুণ উদ্যোক্তাপ