সিলেটে করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্যে ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসক সংকট বিরাজ করছে।
হাসপাতালটির সাধারণ ওয়ার্ডে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমশ কমলেও আইসিইউতে রোগীর চাপ কমেনি ।
গতকাল শনিবারও আইসিইউতে রোগী ছিলেন ১৩ জন। সেখানে আইসিইউতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১২ চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জন এরইমধ্যে অন্যত্র চলে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. হোসেইন আহমদ (রুবেল) সিলেটের ডাককে বলেন, করোনা শনাক্তের হার কমে আসায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমেছে। তবে, আইসিইউতে রোগীর চাপ এখনো আগের মতো। কোনো কোনো দিন আইসিইউ’র সকল বেডে রোগী ভর্তি থাকেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর.এম.ও) ডা. মিজানুর রহমান সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন, আইসিইউর চিকিৎসকদের মধ্যে কারো বিবিএসে চাকুরী হয়ে গেছে , কেউ অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। এজন্য আইসিইউতে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই সংকট থাকবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসিইউর ১২ চিকিৎসকের মধ্যে ডা. জলি লাল দাস ও ডা. শুভ্র দেবনাথ পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এফসিপিএস কোর্স করতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে গেছেন ডা. তানভির নাবিল। ডা. তামিম ও ডা. সোহাগ বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছেন। যেকোনো মুহূর্তে এ দুজন চিকিৎসক নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরের অধীনে ইউএনডিপি’র একটি প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন ডা. তামিম ও ডা. সোহাগ। সম্প্রতি তারা বিসিএস স্বাস্থ্যে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে আইসিইউ ইনচার্জ ডা. হোসেইন আহমদ (রুবেল) সহ ৭ জন চিকিৎসক আইসিইউ’র রোগীদেরকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল শনিবার আইসিইউতে রোগী ছিলেন ১৪ জন। এর মধ্যে একজন মারা যান। এর আগের দিন শুক্রবার কোনো রোগী মারা যাননি। এদিন আইসিইউতে রোগী ছিলেন ১২ জন। বৃহস্পতিবার ১৪ জন রোগী ছিলেন। এর মধ্যে এদিন ৩ জন মারা যান।
বুধবার রোগী ছিলেন ১৫ জন। এ হাসপাতালে মোট আইসিইউ বেড ১৬টি। করোনা ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমে আসলেও আইসিইউতে এভাবে রোগীর চাপ আগের মতোই আছে। গতকাল শনিবার সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করোনা রোগী ছিলেন ১৫ জন। সাধারণ ওয়ার্ডে মোট বেড সংখ্যা ৮৪ টি। সাধারণ ওয়ার্ডের করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্যে রয়েছেন ৪৭ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্যে প্রস্তুত করা হয় হাসপাতালটি। এতে সাধারণ বেড ও আইসিইউ বেড ছাড়াও হাই ফ্লু নজেল কেনোলা ৬টি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ২৬১টি ও ৯টি ভেন্টিলেশন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গেল বছরের ৫ এপ্রিল সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের করোনা শনাক্ত হন। তিনি সিলেটসহ সারাদেশের মধ্যে করোনায় মৃত্যুবরণকারী প্রথম চিকিৎসক। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই হাসপাতালে ১৫ এপ্রিল মারা যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ‘গরীবের ডাক্তার খ্যাত’ ডাঃ মঈন উদ্দিন।
২৫ এপ্রিল শনিবার রাত ৮টায় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তির ৩ ঘণ্টার মধ্যেই চুনারুঘাটের ১০ বছর বয়সী এক শিশু মারা যায়। ২ দিন পর আইইডিসিআর শিশুটির করোনা শনাক্তের খবর নিশ্চিত করে। শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে এই শিশুটিই প্রথম মারা যায়। তবে শিশুটি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল বলে চিকিৎসকরা জানান।
সূত্র: দৈনিক সিলেটের ডাক