যুদ্ধবিরতি ইস্যু ‘শেষ’, ইরানের সঙ্গে আর আলোচনা চান না ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি তার দৃষ্টিতে শেষ হয়ে গেছে। তিনি মনে করেন, এ নিয়ে আর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো মহাসম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আর তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করতে চাই না। তারা খুবই নিকৃষ্ট মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে সবকিছু শেষ। তাদের সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোনো মানে নেই। তারা মিথ্যাবাদী।’
ট্রাম্পের ভাষ্য, দুই পক্ষের আলোচকরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, ‘তবে আমার মনে হয়, তারা শুধু সময়ই নষ্ট করছেন।’
যুদ্ধবিরতি নিয়ে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘তারা কথা বলতে পারে, কিন্তু আমার মনে হয়, এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তাদের পেছনে আর সময় নষ্ট করতে চাই না।’
সবশেষে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের দক্ষ আলোচকরা চাইলে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু আমি এতে আর কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। তাদের অভিযোগ, এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ অবসান–সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) গুরুতর লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কেন্দ্রে সামরিক হামলা চালিয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলা যুদ্ধ অবসান–সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই ধারায় সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব রাষ্ট্রের—বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর—দায়িত্ব হলো, তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করে কোনো আগ্রাসী পক্ষ যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হলে, তা ওই আগ্রাসনের অপরাধে অংশগ্রহণ ও সহায়তা করার শামিল বলে বিবেচিত হবে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরান জানিয়েছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। পাশাপাশি হামলার উৎস ও দায়ী পক্ষকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার প্রতিশোধে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন ঘাঁটি গুলো লক্ষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।