সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও এর সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের শাস্তি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে আহতরা হলেন, মাহফুজুল ইসলাম, মাহমুদুল্লাহ মিরাজ, জয়শঙ্কর রায় চৌধুরী, রেজাই রাব্বি নিলয়, মো. রায়হান চৌধুরী, তামিন ইসরাফ অয়ন, তানজিদ আহমেদ, জামশেদুল ইসলাম।
রোগীর স্বজনদের মধ্যে আহতরা হলেন, সিলেট নগরীর বালুচর এলাকার জাহিদ খান, ঘাসিটুলা এলাকার আজহার (২৫), সাগর দিঘীর পাড়ের আবির (২৪) ও কবির আহমদ। বর্তমানে তারা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে নিয়ে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবি, রোগীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জরুরি বিভাগে থাকা অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ চেষ্টা চালালে কিছু সময় উত্তেজনা বিরাজ করে।
এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠি ও স্ট্যাম্প হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেই চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও কেটে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এদিকে, ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে পৃথক বিবৃতিতে হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর আঘাত। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
দাবি পূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে।
একই দাবিতে ওসমানী মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। তাদের ভাষ্য, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান বলেন, আহত দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো.মাইনুল জাকির বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দুই পক্ষের আহত বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি।