আজ ,

সিলেটে হাফেজ দুই ভাইয়ের তেলাওয়াতে মুগ্ধ মুসল্লিরা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে হাফেজ দুই ভাইয়ের তেলাওয়াতে মুগ্ধ মুসল্লিরা

হাফেজ সাকিব হাসান ও হাফেজ সাবিত হাসান দুই ভাই। ২০১৯ সালে সাকিব আর ২০২২ সালে সাবিত কুরআনুল কারীমের হিফজ সম্পন্ন করেন। মাত্র তিনবছরে দুই ভাই বক্ষে কুরআনকে ধারণ করতে সক্ষম হন। হাফেজে কুরআন হওয়ার পর থেকেই উভয়ে প্রতি রমজানে তারাবির নামাজে ইমামতি করে আসছেন।

এই দু’জনই সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার হাজীনগরস্থ জামেয়া আমিনিয়া মংলিপার হাজীনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল, সিলেট ফরেষ্ট্রি সাইন্স এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাহমুদুল হাসানের ছেলে।

গত রমজানের ন্যায় এবারো হাফেজে কুরআন দুই সহোদর সিলেট বিমানবন্দর এলাকার বড়শলা মংলিপার নেছারাবাদ হাউজিং জামে মসজিদে সালাতুত তারাবির নামাজে অত্যন্ত সুনামের সাথে ইমামতি করছেন।

মহাগ্রন্থ কুরআনুল কারীম। মানবজাতীর চলার পথের গাইড লাইন। মুমিনদের আত্মার খোরাক। তেলাওয়াতে খুশি হয় মুমিনদের অন্তর। বাড়ে ঈমান। ঐশীগ্রন্থ। মহান আল্লাহর চিরন্তন বাণী। মিথ্যা ভুল ও সন্দেহের উর্ধ্বে এক মুজেজাপূর্ণ কিতাব। লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত কিতাব। হেরা গুহায় সূচনা যে কিতাবের। ‘ইকরা বিসমি’ তথা পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মর্মার্থের পাঁচখানা আয়াতের বাহক ফেরেশতা জিবরাইল। প্রিয় রাসুল সা. ঠিকানা। কুরআন এক আলোর ফোয়ারা।

কুরআন মানব জাতির মুক্তির মানুষের পথ নির্দেশিকা। মুমিনের ইমানের চেতনা। মুত্তাকির জান্নাতের ঠিকানা। পথচলার সমাধান। কুরআনের মাস রমজান। এ মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়। তাইতো রমজান সম্মানিত। কুরআন ছোঁয়া লাগবে যে অন্তরে, সে অন্তর হবে নূরানী আলোয় আলোকিত। হবে সুরভিত। কুরআনের ছোঁয়ায় ঈমান হবে শাণিত। রোজায় কুরআনের সুর বাজে মুমিনের ঘরেঘরে।
তারাবির নামাজে পঠিত হয় কুরআন। প্রথম রমজান থেকে একাধারে ২৭ রোজা পর্যন্ত সিলেটের সকল মসজিদে মসজিদে হাফেজে কুরআনদের কণ্ঠে ধ্বনীত হয় খোদার বাণী। শীতল হয় মুসল্লিদের হৃদয়। এসকল হাফেযে কুরআনদের খেদমতে মুসল্লিরা মহান আল্লাহকে পাওযার আশায় থাকেন।

মাহে রমজানে তারাবির নামাজের ইমামতির দায়িত্ব পালন করা হাফেজে কুরআনদের নিয়ে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটের বিশেষ আয়োজন ‘আলোর পরশমণি’। আজ আমরা হাফেজ সাকিব হাসান ও হাফেজ সাবিত হাসানের কথা পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।

হাফেজ সাকিব হাসান ২০১৯ সালে সিলেট নগরীর মিতালী আবাসিক এলাকার রায়নগরস্থ দারুসসুন্নাহ মাদরাসা থেকে আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড) এর অধীনে হিফজ তাকমিলের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি জামেয়া মদীনাতুল উলুম দারুস সালাম খাসদবীর থেকে শরহে জামী জামাতে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছেন।
এদিকে হাফেজ সাবিত হাসান ২০২২ সালে জামেয়া মজিদিয়া কুচাই থেকে আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড) এর অধীনে হিফজ তাকমিলের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ‘এ প্লাস’ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। আর তিনি এবছর একই মাদরাসা থেকে নাহুমীর জামাতে বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।

হাফেজ দুইছেলের গর্বিত পিতা প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে দুনিয়া আখেরাতের সবচেয়ে দামী সম্পদ দান করেছেন, কলিজার টুকরো আমার দুই ছেলে হাফিজ হয়েছে এর চেয়ে বড় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি আর কি হতে পারে, আমি যখন তাদের পেছনে নামাজ আদায় করি তখন এমন প্রশান্তি অনুভব করি যে এরকম আত্মতৃপ্তি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তিনি বলেন আমার দুনো ছেলের জন্য সকলের দোয়া চাই আল্লাহ তায়ালা যেনো তাদের দু’জনকে আমলদার আলেম হিসেবে গড়ে তোলেন এবং দ্বীনের নিরলস খাদিম হিসেবে কবুল করেন।