২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘উন্নয়নমুখী, জনবান্ধব ও দূরদর্শী’ আখ্যায়িত করে সিলেটে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা বিএনপি।
শুক্রবার (১২ জুন) নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ এমপি বলেন, “২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছে বিএনপি সরকার।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রণীত এ বাজেটের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছে।”
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন-জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, নাজিম উদ্দিন লস্কর; উপদেষ্টা কামরুল হাসান শাহীন; যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, তাজরুল ইসলাম তাজুল, আনোয়ার হোসেন মানিক, আবুল কাশেম, আব্দুল আহাদ খান জামাল, শাকিল মোর্শেদ ও জসিম উদ্দিন; সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সভাপতির বক্তব্যে কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট।
তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়া।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার প্রত্যয় এ বাজেটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, ভোজ্যতেল ও মসলাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাসের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান।