সিলেট নগরীর উপকণ্ঠ খাদিমপাড়ার রুস্তমপুর এলাকার সহস্রাধিক মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। এলাকার জনগণের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সীমানা প্রাচীর দিচ্ছে বিসিক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন, বিসিক কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জামাল মিয়া। জানা যায়, খাদিমপাড়া ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ডের রুস্তমপুর আবাসিক এলাকার চলাচলের একমাত্র সড়কটি বিসিক শিল্পনগরীর ভেতর দিয়ে এসে সিলেট-তামাবিল সড়কে মিলিত হয়েছে।
রুস্তমপুরের সহস্রাধিক পরিবার কয়েক হাজার গ্রামবাসী সড়কটি ব্যবস্থা করেন। এলাকার চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কটি ব্যবহার করেন। রয়েছে মসজিদ, মার্কেটও। সবার পথরোধ করা বিসিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের (ডিসি) অনুমতির কথা উল্লেখ করে বিসিক প্রশাসন জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে রাস্তাটি বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। এর প্রতিবাদে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে রুস্তমপুর আবাসিক এলাকার হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে আসছেন। হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে। অভিভাবকেরাও শিশুদের নিরাপদ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “জনগণের চলাচলের পথ বন্ধ করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্ত অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী।” তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল করে রাস্তা উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় তারা রাস্তা বন্ধের উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মাববন্ধনে এলাকাবাসী সড়কটি বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। না হলে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুুতি নেবেন এলাকার জনসাধারণ।