আজ ,

ইরানের মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা, নিহত ১৪

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
ইরানের মুহুর্মুহু মার্কিন হামলা, নিহত ১৪

ইরানের পাঁচটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত দুই দিনে চালানো এসব হামলায় হতাহতের এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এসব তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ৮ ও ৯ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কাছে একটি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত মাসে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।

এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ওয়াশিংটন।

বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে আলোচনা করা সময়ের অপচয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দুই দিনের অভিযানে ইরানের ১৭০টির বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, নৌ সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের ওপর আরও হামলা প্রতিরোধ করাই ছিল এ অভিযানের উদ্দেশ্য।

এর জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের পরবর্তী ঘোষণায় ওই সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।