আজ ,

সিলেটে তিন খু.নে.র রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামছে পিবিআই

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে তিন খু.নে.র রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামছে পিবিআই

সিলেট নগরীর রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের রহস্যজট খুলতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মামলাটির নথিপত্র বুঝে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পিবিআই’র পরিদর্শক মোহাম্মদ মোরছালিন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন পিপিএম। ট্রিপল মার্ডারের রহস্যজট দ্রুত উদঘাটন হবে, আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরছালিন বলেন, এসএমপির কোতোয়ালি থানার সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) শিপলু চৌধুরী বুধবার মামলার নথিপত্র হস্তান্তর করেছেন। তার কাছ থেকে নথিপত্র বুঝে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ওই বাসার সিসি ক্যামেরার হার্ডড্রাইভ সংগ্রহ জব্দ করেছেন তিনি।

মোহাম্মদ মোরছালিন বলেন, ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর এই মামলার সিসি ক্যামেরার দৃশ্য ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করা হবে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে সাক্ষিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন এবং রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আদালতে গ্রেফতারকৃত বাবুল মিয়ার ৫ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করবেন।

তিনি বলেন, মামলার মোটিভ বের করতে বাদি এজাহারে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নোটিশে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হবে। বিশেষ করে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে গ্রেফতারকৃত বাবলু মিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল কিনা, নিহত এম এ সাত্তারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ তদন্তে অগ্রাধিকার পাবে। এসব ঘটনার আড়ালে ভিন্ন কোনো কিছু রয়েছে কিনা, তদন্তে বেরিয়ে আসবে, আশাবাদী তিনি।

গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার দ্বিতীয় তলার বাসায় ব্যবসায়ী এম আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও পিবিআই আলামত সংগ্রহ পূর্বক তিনজনের লাশ উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে পুলিশ। ওই দিনই রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনি থেকে পেশায় রংমিস্ত্রি ও কসাইয়ের কাজ করা বাবলু মিয়াকে (৪০) গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

ঘটনার পর এসএমপি পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, ”তাহমিনার সঙ্গে বাবলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব নাকচ করে অপমান করায় তাহমিনাকে ওইদিন সকালে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ দৃশ্য দেখে ফেলায় সাত্তার ও সুরাইয়া দম্পতিকে হত্যা করে। পরে বাবলুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন একটি খালি প্লটে অভিযান চালিয়ে জঙ্গল পরিস্কার করেও কোনো আলামত পায়নি পুলিশ। তবে ১৩ আগস্ট দুপুরে ওই খালি প্লট থেকে জং ধরা একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ সেটি আলামত হিসেবে দেখায়।

১৪ আগস্ট নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবলুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এজাহারে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সম্পত্তির বিরোধের কথা উল্লেখ করেন। এ নিয়ে তাদের চাপ ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছিল। এমনকি আদালত প্রাঙ্গণেও তাদের চাপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহারে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও এসেছে।

এদিকে, ১৬ আগস্ট বাবলুকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২০ আগস্ট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবলু। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বাবুলের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সে সময় আদালত সূত্র জানায়, বাড়িভাড়া নিয়ে চাপের কারণে ওই বাসায় চুরি করতে যান। সে সময় তাহমিনা তাকে দেখে চিৎকার করায় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে সাত্তার ও সুরাইয়াকেও হত্যা করেন। ফলে পুলিশের দাবি ও বাবুলের জবানবন্দিতে আসা তথ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরইমধ্যে তদন্ত নিয়ে নিহত দম্পতির পরিবারের উদ্বেগের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়।

গত ১ সেপ্টেম্বর সিলেট সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন নিহত সাত্তার দম্পতির দুই মেয়ে সেলিনা সুলতানা শিখা ও তারানা সুলতানা শিমু এবং তাদের স্বজনেরা। তারা মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। মন্ত্রী তাদের যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।

ওইদিন সিলেট সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত সভায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী মন্ত্রীর সামনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছে মামলার অগ্রগতির ব্যাখ্যা জানতে চান।

পরে ঢাকায় ফেরার পথে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে কথা বলে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।