চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়াগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই এজলাসে একের পর এক মামলার বিচার এগোচ্ছে, ঘোষণা হচ্ছে আলোচিত মামলাগুলোর রায়। ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় ঘোষিত রায়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।
প্রথম ছয়টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। সর্বশেষ রায়ে আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। এর বাইরে বিভিন্ন মামলায় আসামিদের যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
তবে সাতটি মামলার রায় হলেও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মতো অবস্থায় নেই ট্রাইব্যুনাল। ৩১ আগস্টের হিসাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ৭২টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ছয়টির রায় হয়ে গিয়েছিল এবং ৬৬টি মামলা ছিল রায়ের অপেক্ষায়, বিচারাধীন কিংবা তদন্ত পর্যায়ে। ওই ৬৬টির মধ্যে দুটি মামলা ছিল রায়ের অপেক্ষায়, ২৩টি বিচারাধীন এবং ৪১টি তদন্তাধীন। ১৫ সেপ্টেম্বর ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলার রায় হওয়ায় ওই হিসাবের অবশিষ্ট মামলা দাঁড়ায় ৬৫টি—যদি এর মধ্যে নতুন মামলা যুক্ত না হয়ে থাকে। ]
অর্থাৎ, সাতটি মামলার রায়কে একটি বড় বিচারপ্রক্রিয়ার শেষ নয়, বরং শুরু হওয়া বিচারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সামনে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক এবং রায় সব মিলিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে রয়েছে আরও দীর্ঘ পথ।
প্রথম রায়েই হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই-আগস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম রায় আসে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করে। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণে আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ভূমিকা, নির্দেশ ও দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো সামনে আসে।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়।
চানখাঁরপুলে ছয় হত্যায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
দ্বিতীয় রায় আসে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি। রাজধানীর চানখাঁরপুলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখাঁরপুলে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে ছিলেন আনাস, ইয়াকুবসহ আন্দোলনকারীরা। মামলাটিতে পুলিশের গুলিবর্ষণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এবং ঘটনাস্থলে বলপ্রয়োগের বিষয়গুলো বিচারের কেন্দ্রে ছিল।
আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড
তৃতীয় রায় আসে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া এবং আরও একজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক এসআই আবদুল মালেক, সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
এ মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রায়ে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত আসে।
এই মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতার ভয়াবহতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে সামনে আসে। বিশেষ করে নিহতদের মরদেহ সরিয়ে নেওয়া ও পোড়ানোর ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড
চতুর্থ রায় আসে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং অপর ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আবু সাঈদ ছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত নিহত ব্যক্তি। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাটি আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকী ঘটনায় পরিণত হয়।
এই মামলার রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের সর্বোচ্চ সাজা এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের সঙ্গে আসামিদের পৃথক ভূমিকা বিবেচনার বিষয়টিও সামনে আনে।
রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি
পঞ্চম রায় আসে ২০২৬ সালের ২৮ জুন। রাজধানীর রামপুরায় নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং একই এলাকায় আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ([Jagonews24][8])
এ মামলায় রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চানখাঁরপুল মামলার পর একই সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এটি ছিল দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত একাধিক মামলায় একই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগে বিচার ও সাজা পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
ষষ্ঠ রায় আসে ২০২৬ সালের ৩০ জুন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে দুটি চার্জে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে ভূমিকা, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার নির্দেশসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে কমান্ড রেসপনসিবিলিটির বিষয়ও ছিল। রায়ে সর্বোচ্চ শাস্তির পরিবর্তে কারাদণ্ড হওয়ায় আগের কয়েকটি মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তুলনায় এটি ছিল ভিন্ন মাত্রার সিদ্ধান্ত।
সপ্তম রায়: কাদের-নাছিম-আরাফাতসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড
সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলায় ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। মামলার আগে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাত আসামিই পলাতক।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার মতো অভিযোগও আনা হয়। এ মামলায় টেলিফোনে কথোপকথনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ওপর রাষ্ট্রপক্ষ জোর দেয়।
সাত রায়ে মৃত্যুদণ্ড ২৩
প্রথম ছয়টি রায়ের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল। চানখাঁরপুলে তিনজন, আশুলিয়ায় ছয়জন, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুজন এবং রামপুরায় তিনজন এই চার মামলায়ই ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড হয়; এর সঙ্গে প্রথম মামলার দুইজন মিলিয়ে ছয় রায়ে মোট ১৬ জন।
এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর কাদেরসহ আরও সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় সাতটি রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
তবে সাতটি রায়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়নি। যেমন আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হয়ে পাঁচ বছরের সাজা পেয়েছেন, আবু সাঈদ মামলায় তিনজন যাবজ্জীবনসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে এবং ইনুকে দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড। ফলে মামলাভেদে অভিযোগ, প্রমাণ এবং আসামির ভূমিকা অনুযায়ী সাজায় পার্থক্য রয়েছে।
রায়ের অপেক্ষায় আরও মামলা
৩১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে মোট ৭২টি মামলার মধ্যে ছয়টির রায় হয়ে গিয়েছিল। বাকি ৬৬টির মধ্যে দুটি ছিল রায়ের অপেক্ষায়, ২৩টি বিচারাধীন এবং ৪১টি তদন্তাধীন। অর্থাৎ সব মামলার বিচার একই পর্যায়ে নেই।
রায়ের অপেক্ষায় থাকা দুটি মামলার একটি ছিল ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলা। অন্যটি কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের মামলা। হানিফের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল সেটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিল।
ওবায়দুল কাদেরের মামলার রায় ১৫ সেপ্টেম্বর হয়ে যাওয়ায় ৩১ আগস্টের ওই হিসাব থেকে রায়ের অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যা কমে এখন অন্তত একটি হয়েছে—হানিফসহ চারজনের মামলা। আর নতুন মামলা যুক্ত না হলে ৬৬টি অবশিষ্ট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫।
বিচারাধীন ২৩, তদন্তে ৪১
ট্রাইব্যুনালের সামনে থাকা মামলাগুলোর বড় অংশ এখনো রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ৩১ আগস্টের হিসাবে ২৩টি মামলা ছিল বিচারাধীন। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ১৪টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের গুম-খুনসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের নয়টি মামলা ছিল। আরও ৪১টি মামলা তখন তদন্ত পর্যায়ে ছিল।
তদন্তাধীন মামলাগুলোর ক্ষেত্রে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের মতো ধাপ পার হতে হবে। ফলে এসব মামলার রায় পেতে স্বাভাবিকভাবেই আরও সময় লাগবে।
শুধু জুলাই নয়, গুম-খুনের বিচারও চলছে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুধু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন, নির্যাতন এবং মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও মামলা চলছে। ৩১ আগস্টের হিসাবে ৭২টি মামলার মধ্যে গুম-খুনসহ অন্যান্য ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এ কারণে ট্রাইব্যুনালের সামনে থাকা মামলার সংখ্যা শুধু জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার দিয়ে ব্যাখ্যা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর পাশাপাশি পুরোনো সময়ের গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও একই বিচারিক কাঠামোর মধ্যে এগোচ্ছে।
জনতার অপেক্ষা এখন পরের রায়গুলোর
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের আগ্রহ শুরু থেকেই তীব্র। সাতটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন সাজা ঘোষণার পর এখন তাদের নজর বাকি মামলাগুলোর দিকে।
তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মামলায় অভিযোগের ধরন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের পৃথক ভূমিকা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়াই মূল বিষয়। ফলে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে বলেই অন্য মামলাতেও একই সাজা হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং কোন আসামির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ প্রমাণিত হচ্ছে, সেটিই নির্ধারণ করবে চূড়ান্ত সাজা।
সাতটি মামলার রায় তাই কেবল ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বা কয়েকজনের কারাদণ্ডের হিসাব নয়। এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে বিচারিক প্রক্রিয়া একটি দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে সামনে থাকা আরও ৬৫টি মামলা এই বিচারপ্রক্রিয়ার পরিধি ও গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়েছে।