আজ ,

এআই: মানবসভ্যতা বিলুপ্তির ৭০% ঝুঁকি, দাবি গবেষকের

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ণ
এআই: মানবসভ্যতা বিলুপ্তির ৭০% ঝুঁকি, দাবি গবেষকের

ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে উদ্বেগ আরো জোরালো করে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা গবেষক মার্কাস উইলিয়ামস। তার দাবি, এআই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমনকি তিনি এ সম্ভাবনাকে ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে উইলিয়ামস বলেন, মানবসভ্যতাকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে এআই মডেলের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার এআই’ তৈরির গতি কমাতে বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

উইলিয়ামস জানান, এআই নিয়ন্ত্রণে না এলে কিংবা এআই ল্যাবগুলো উন্নত মডেল তৈরির গতি কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই বেশি।

একজনের মন্তব্যের জবাবে তিনি আরও বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে মানবসভ্যতা বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এআই নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বিধিমালা তৈরি করা কিংবা উন্নত এআই তৈরির গতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া এখনো সম্ভব।

উন্নত এআই মডেলের সক্ষমতা যত বাড়ছে, সেগুলো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও তত বাড়ছে।

সম্প্রতি এআই এজেন্টের আচরণ নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে ওপেনএআই জানিয়েছিল, তাদের প্রায় ৭০০ এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হাগিং ফেস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করেছিল। এ ছাড়া ওপেনএআইয়ের হাজারো এআই এজেন্ট একটি জার্মান ওয়েবসাইটকে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলেও জানা যায়।

‘বেশির ভাগ মানুষ মারা যেতে পারে’

এদিকে ওপেনএআইয়ের বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সাবেক মার্কিন সরকারি প্রযুক্তি উপদেষ্টা পল ক্রিস্টিয়ানো। ওপেনএআইয়ের অলাভজনক ফাউন্ডেশনের বোর্ড ও সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনিও এআই নিয়ে গুরুতর ঝুঁকির কথা বলেছেন।

ক্রিস্টিয়ানো জানান, এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকলে খুব কাছের ভবিষ্যতেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো বিপর্যয় ঘটতে পারে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া যদি ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ তৈরি করা হয়, তাহলে মানুষের পক্ষে সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ মানুষ মারা যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বলতে এমন উন্নত এআইকে বোঝানো হয়, যার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা মানুষের সমান বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

ক্রিস্টিয়ানো আরো বলেন, এআই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। তবে তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওপেন এআইসহ পুরো এআই শিল্পই এ ধরনের ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনার পথে যথেষ্ট এগোতে পারেনি।

এআই নিয়ে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওপেন এআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোকি। তিনি এআইকে ‘এলিয়েন মাইন্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করে সতর্ক করেছেন, দ্রুত যন্ত্রবুদ্ধির বিকাশের সম্ভাব্য পরিণতির জন্য বিশ্ব এখনো প্রস্তুত নয়।

অন্যদিকে, অ্যানথ্রপিকের অ্যালাইনমেন্ট সায়েন্স বিভাগের প্রধান ইভান হুবিঙ্গারও সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে এআইয়ের কারণে সব মানুষ মারা যাওয়ার ১০ শতাংশের বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এআই নিরাপত্তা নিয়ে এসব সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে সামনে আসছে, যখন এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ড এবং মানুষের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করার ঘটনা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে উন্নত এআই তৈরির পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।