আজ ,

পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন বেশি কেন? এর পেছনের কারণগুলো

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন বেশি কেন? এর পেছনের কারণগুলো

মাসের নির্দিষ্ট সময় এলেই মাথাব্যথা শুরু হয়। কখনো আলো সহ্য হয় না, কখনো শব্দে অস্বস্তি লাগে। সঙ্গে থাকতে পারে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা কিছুই ঠিকমতো ভাবতে না পারার মতো অনুভূতি। অনেক নারীর কাছে মাইগ্রেন তাই শুধু মাথাব্যথা নয়, বরং দিনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দেওয়া এক যন্ত্রণার নাম।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যেই মাইগ্রেনের সমস্যা বেশি দেখা যায় কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হরমোনের ওঠানামা। তবে শুধু হরমোন নয়—ঘুমের অনিয়ম, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের মতো বিষয়ও মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়াতে পারে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেনের ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশ্বজুড়ে প্রতি সাতজন মানুষের মধ্যে প্রায় একজন মাইগ্রেনে ভোগেন।

মাইগ্রেন আসলে কেন হয়?

মাইগ্রেনকে জেনেটিক ও স্নায়বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের তুলনায় বিভিন্ন পরিবর্তনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

কিছু মানুষের শরীরে মাইগ্রেনের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন থাকলেও সবার ক্ষেত্রে এর উপসর্গ দেখা যায় না। বাইরের বিভিন্ন উদ্দীপক মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুপথ সক্রিয় করে দিলে মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হতে পারে।

তবে মাইগ্রেনের কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। একজনের যে বিষয়টি আক্রমণ বাড়ায়, অন্যজনের ক্ষেত্রে সেটি কোনো সমস্যাই তৈরি নাও করতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের প্রভাব এত বেশি কেন?

শৈশবে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের হার প্রায় কাছাকাছি।

কিন্তু বয়ঃসন্ধির পর চিত্র বদলাতে শুরু করে। বিশেষ করে মেয়েদের মাসিক শুরু হওয়ার পর মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে হরমোনের ওঠানামা। মাসিকের আগে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এই পরিবর্তন অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু করতে পারে বা আগের তুলনায় তা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় পেরিমেনোপজ। মেনোপজের আগে হরমোনের মাত্রায় দ্রুত পরিবর্তন হওয়ায় এ সময়ও মাইগ্রেনের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ঘুমের সমস্যা ও পারিবারিক নানা দায়িত্বের চাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

তবে মেনোপজের পর হরমোনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলে অনেক নারীর মাইগ্রেনের আক্রমণের হার ও তীব্রতা কমে আসতে পারে।

শুধু হরমোন নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং কয়েকটি ছোট ছোট বিষয় একসঙ্গে মিলে শরীরের সহনীয় সীমা অতিক্রম করলেই আক্রমণ শুরু হতে পারে।

কম ঘুম, অতিরিক্ত ঘুম, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, রক্তে শর্করার ওঠানামা কিংবা মানসিক চাপ—এসব বিষয় কারও কারও ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের উদ্দীপক হতে পারে।

তাই নিয়মিত ঘুম ও সময়মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করা উপকারী হতে পারে।

পানি কম খেলেও বাড়তে পারে সমস্যা

গরমের সময় বা ব্যস্ততার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাই সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় পানিশূন্য অবস্থায় না থাকার চেষ্টা করা জরুরি।

মানসিক চাপের সঙ্গেও আছে যোগসূত্র

কাজ, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপও মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক হতে পারে।

মজার বিষয় হলো, শুধু চাপের সময়ই নয়—দীর্ঘ সময়ের ব্যস্ততা বা মানসিক চাপের পর হঠাৎ স্বস্তির সময়ও কারও কারও মাইগ্রেন শুরু হতে পারে। তাই নিয়মিত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং কাজের ফাঁকে বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

আবহাওয়ার পরিবর্তনেও বাড়তে পারে মাইগ্রেন

তাপমাত্রা, আর্দ্রতা কিংবা বায়ুচাপের পরিবর্তনও কিছু মানুষের মাইগ্রেন বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সময় যাদের মাইগ্রেনের প্রবণতা রয়েছে, তাদের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া আয়রনের ঘাটতি, সিলিয়াক রোগ ও থাইরয়েডের সমস্যার মতো কিছু শারীরিক অবস্থার সঙ্গেও মাইগ্রেনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

নিজের মাইগ্রেনের কারণ খুঁজে বের করবেন কীভাবে?

মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে নিজের ট্রিগার চিহ্নিত করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কখন মাথাব্যথা শুরু হচ্ছে, তার আগে কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, কখন খাবার খেয়েছেন, কতটা পানি পান করেছেন, মানসিক চাপ কেমন ছিল এবং মাসিক চক্রের কোন সময়ে ছিলেন—এসব লিখে রাখা যেতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের তথ্য মিলিয়ে দেখলে কোন বিষয়গুলো বারবার মাইগ্রেনের আগে ঘটছে, তা বোঝা সহজ হতে পারে।

মাইগ্রেন বারবার হলে, আগের তুলনায় তীব্রতা বেড়ে গেলে বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সব ধরনের মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।