চট্টগ্রাম নগরের খুলশী-জালালাবাদ এলাকায় আটতলা এক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতাররা চার দেশের বাসিন্দা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল এ অভিযান চালায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।
তিনি বলেন, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে পুলিশ।
মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছেন, ভবনটিতে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন- এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
এছাড়া তাদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, সেসব তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কোটি টাকার লেনদেনের সন্দেহ
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আটতলা ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অভিযানে জব্দ করা ৭০টি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে আটক ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য এবং ভবনটিতে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও দাবি করেছে, কথিত ওই জুয়ার আসরে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওই অর্থের পরিমাণ বা লেনদেনের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব প্রকাশ করেনি পুলিশ। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, অনলাইন লেনদেন কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।