আজ সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ মিসিং

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ মিসিং

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের দৃশ্য। ছবি : বিসিবি

জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার তখন মাত্র ৯ রান, হাতে ৫টি উইকেট। ক্রিজে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচ একাই বের করে নেওয়া কুপার কনোলি। মিরপুরের গ্যালারি তখন প্রায় নিস্তব্ধ, হোয়াইটওয়াশের স্বপ্নটা যেন ক্রমশ ধূসর হয়ে আসছিল। ঠিক তখনই বল হাতে জ্বলে উঠলেন শরিফুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান। মাত্র ২০ বলের ব্যবধানে এই দুই পেসারের তোপে ৪টি উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া।

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তখন অবিশ্বাস্য জয়ের সুবাস। কিন্তু ক্রিকেটের চিরন্তন নাটকীয়তায় শেষ রক্ষা আর হলো না। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে ১ উইকেটের সান্ত্বনার জয় এনে দিলেন অ্যাডাম জাম্পা।

অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৪৫.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬৬, তখন থেকেই শুরু হয় ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক রোমাঞ্চ।

৪৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে অলিভার পিককে (২৭) কাভারে রিশাদের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান শরিফুল। পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান জেভিয়ার বার্টলেটকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। টানা দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে মিরপুরের গ্যালারিতে গর্জন ফেরান শরিফুল।

এর মাঝেই মোস্তাফিজ নিজের বলে নিজেই ডোয়ারশিসের ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ তামি। তবে ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে সেই বেন ডোয়ারশিসকে মেহেদীর ক্যাচ বানিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের সেরা বোলিং ফিগার (১০ ওভারে ৪৮ রানে ৬ উইকেট) পূর্ণ করেন শরিফুল। এটি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম সেরা বোলিং।

১২ বলে যখন অস্ট্রেলিয়ার দরকার ৫ রান, শরিফুলের বলেই অ্যাডাম জাম্পার একটি সহজ ক্যাচ গালিতে ফেলে দেন তানজিদ হাসান তামিম। জীবন পেয়ে যান জাম্পা, আর এই ক্যাচ মিসটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে।

৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে রূপকথার এই লড়াইকে চরম উত্তেজনায় রূপ দেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করা মহাতারকা কুপার কনোলিকে ইনসাইড এজে বোল্ড করে দেন তিনি! জয়ের জন্য অজিদের দরকার ৪ রান, বাংলাদেশের মাত্র ১ উইকেট। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। তাসকিন আহমেদের করা প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়ে অ্যাডাম জাম্পাকে স্ট্রাইক দেন রাইলি মেরেডিথ। দ্বিতীয় বলটি ডট খেলে চাপ বাড়ান জাম্পা। তবে তৃতীয় বলে আর স্নায়ু ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ; তাসকিনের লেংথ বলকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন জাম্পা।

এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য (২), তামিম (১৯) ও শান্তর (২৪) উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ১৮৫ রানের বিশাল জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন এবং লিটন দাস এক প্রান্ত আগলে রেখে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেনের ৫১ বলে খেলেন ৫৬ রানের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ।

ক্যাচ মিস আর শেষ মুহূর্তের ভাগ্যের ফেরে হোয়াইটওয়াশের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হলেও, শরিফুল ও মোস্তাফিজের এই লড়াকু প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের ট্রফিটা অবশ্য নাজমুল হোসেন শান্তর দলের হাতেই উঠছে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৭৪/৫ (৫০ ওভার); তাওহীদ ৮৩, লিটন ৫৮*, মোসাদ্দেক ৫৬*; রেনশ ২/৪৪।
অস্ট্রেলিয়া: ২৭৭/৯ (৪৯.৩ ওভার); কনোলি ১৪৯, লাবুশেন ২৯; শরিফুল ৬/৪৮, মোস্তাফিজ ১/৫৬।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০