আজ ,

সিলেটে মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ, ভিডিওতে মারধর দেখিয়ে টাকা দাবি

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ, ভিডিওতে মারধর দেখিয়ে টাকা দাবি

Oplus_131072

সিলেটে হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র তিন দিন ধরে নিখোঁজ। নিখোঁজদের একজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধরের ভিডিও দেখিয়ে তাঁর বাবার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে ওই ছাত্রকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।

এ ঘটনায় দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজ দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। তাদের দুজনেরই বয়স ১৫ বছর। তারা সিলেট নগরের খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

তামিম দক্ষিণসুরমার বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে।

অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় দুই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তারা নিখোঁজ ছিল।

সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কলে তাঁর ছেলেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধরের দৃশ্য দেখানো হয়। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলা হয়। টাকা না দিলে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

বেবুল আহমদ বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। কে বা কারা টাকা দাবি করছে, তা জানি না। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’

জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় দুই ছাত্র মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি তাঁদের অভিভাবকদের জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, তামিম এর আগেও দুইবার কাউকে না জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তাঁর বাবা এসে তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে যান।

তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার বলেন, তাঁর ছেলে এর আগেও দুইবার মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। এবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ছেলের পরিণতি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, দুই ছাত্রের নিখোঁজের ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছেন। তাঁদের ছবি সারা দেশে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাদের উদ্ধারে চেষ্টা করছে।

ইমোতে টাকা দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, যে নম্বরটি দেওয়া হয়েছে, সেটি যাচাই করে দেখা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ।

 

নিখোঁজের ঘটনায় অনেক সময় প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। ইমোতে পাঠানো কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিও অস্পষ্ট। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।