আজ ,

‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ণ
‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

বনদস্যু ‘নানা ভাই’ বাহিনীর ১২ সদস্যের আত্মসমর্পণ।

সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন দস্যু ১৩ টি আগ্নয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরণের ৬৭৬ রাউণ্ড গোলাবরুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন কোস্ট গার্ডের কাছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে আত্মসমর্পণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় কোস্ট গার্ড।

আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৪৫)।

এদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রামপাল, খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায়।

গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় আত্মসমর্পণ করেন তারা।কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছন।

মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন বলেন, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ কারণে নিজের জীবন রক্ষায় আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় দস্যুরা।

এর আগে কয়েক দফায় বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৯৬ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ নিয়ে চলতি বছরে আত্মসমর্পণ করেছেন ১০৮ জন বনদস্যু। এ ছাড়া নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে আরও ২৯ জন দস্যুকে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জন জনজীবীকেও।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। সুন্দরবনে এখনো যেসব দস্যু বাহিনী সক্রিয় বা আত্মগোপনে রয়েছেন, তাদেরও অপরাধ কর্মকাণ্ড ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।