সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) হত্যার দায় স্বীকার করেছে সাদী।
হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) সিলেট মেট্রো ও জেলা।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় রাহাত হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী গ্রেফতারকৃত শামসুদ্দোহা সাদীর দেখানাে মতে ঘটনায় ব্যবহৃত চাকুটি (যার দৈর্ঘ্য বাটসহ ৭.৫ ইঞ্চি) দক্ষিণ সুরমার সিলাম হাজীপুর নামক স্থানের ডুবা জমি থেকে উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সিআইডি সিলেটের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিলেট মেট্রো ও জেলা (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা।
তিনি জানান, রাহাত খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হওয়ায় ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সিলেট মেট্রো ও জেলার বিশেষ পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা ও এলআইসি সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর পিপিএম এর একটি চৌকস টিম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি শামসুদ্দোহা সাদীকে (২৩) গ্রেফতার করে।
সাদীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সিআইডি জানায়, তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন। বয়সে সাদী ছিলেন রাহাতের চেয়ে বড়। এজন্য তিনি তিনি রাহাতের কাছে ‘জ্যেষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয়ের বিবাদের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
উল্লেখ্য- এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২১অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের মূল ফটকের ভেতরে ছুরিকাঘাতে খুন হন পুরান তেতলি গ্রামের সুরমান মিয়ার ছেলে ও কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আরিফুল ইসলাম রাহাত। তাকে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় একই কলেজের বহিস্কৃত ছাত্র শামসুদ্দোহা সাদি ও তার সহযোগীরা। আরিফুল ইসলাম রাহাতের হত্যার ঘটনার পরপরই ঘাতক হিসেবে সামনে আসে শামসুদ্দোহা সাদীর নাম।
ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে রাহাত তার চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফির সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পথে সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি কলেজে যান। কলেজ থেকে বের হওয়ার পথে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার সময় রাহাতের সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই রাফির ভাষ্যে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হন সাদী। তবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে দ্রুতই সটকে পড়েন হত্যাকারীরা।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার রাতে রাহাতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় সাদীসহ এজাহারনামীয় ৩ জন ও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা নং- ২১,তাং- ২২.১০.২০২১ইং।
মামলায় আসামি হিসেবে নামোল্লেখ করা হয়েছে সিলাম পশ্চিমপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার ছেলে তানভির এবং আহমদপুর গ্রামের মৃত গৌছ মিয়ার ছেলে সানির।