ছাত্র জমিয়ত সিলেট জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল আগামী বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি এখলাছুর রহমান রিয়াদ।
ছাত্র জমিয়ত নামের এই রাজনৈতিক সংগঠনটি কী চায় বুঝিয়ে বললেন দলটির সিলেট জেলা শাখার বর্তমান সেক্রেটারি লুকমান হাকিম। তিনি তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন-”নৈতিক যোগ্যতা ও জাগতিক দক্ষতার সমন্বয়ের অভাবে নির্মাণ হচ্ছে না সুন্দর একটি পৃথিবী। কেউ চায় দক্ষতাহীন যোগ্যতা দিয়ে সমাজ নির্মাণ করেত আর কেউ চায় যোগ্যতাহীন দক্ষতা দিয়ে সভ্যতা নির্মাণ করতে। কারো চাহিদাই পূর্ণ হবার নয়।
এই উম্মতের প্রধান সমস্যা হলো, নৈতিক যোগ্যতা ও জাগতিক দক্ষতা সমন্বিত রিজাল (দায়িত্বশীল) ও ফাঅআল (কর্মীবাহিনী)এর সংকট।
আমাদের দায়িত্ব একা একা ইসলামচর্চা করা নয়, বরং সম্মিলিতভাবে করা। জানবাঁচিয়ে, কষ্ট না করে সঠিক ইসলামচর্চা করা যায়না। কিন্তু কেউ কষ্ট করে ইসলামচর্চা করতে চায়ই না।
জাগতিক সমাজের মেধাবীরা টাকা আর পদ কামানোতে ব্যস্ত।
ধর্মীয় সমাজের মেধাবীরা জ্ঞান আর বড়বড় ডিগ্রী অর্জনের রত। সুন্দর সমাজ নির্মাণে ত্যাগ ও কুরবানীর কঠিন পথে তারা আসতে চায় না। এটা নিয়ে নিয়েছে রাজনীতির লোকেরা। অথচ রাজনীতি সৎলোকের কাজ হলেও আজকে তা হয়ে দাঁড়িয়েছে- অসৎ আর ফোরটুয়েন্টির অভয়ারণ্য। এর কারণ হচ্ছে, সৎ মেধাবীরা কষ্টের এই দায়িত্ব নিতে না চাওয়া।
ছাত্রসংগঠনগুলো মূলত দক্ষতা অর্জন ও দায়িত্বজ্ঞান সৃষ্টি এবং চর্চার জায়গা। নৈতিক যোগ্যতা ও জাগতিক দক্ষতার মধ্যে সমন্বয় করার ফ্লোর। এখানে ত্যাগ আর ত্যাগ, বাহ্যিক কোনো অর্জন নেই।
যতদিন পর্যন্ত মেধাবীরা এতে না আসবে, জাতীয় ভার বহন করার যোগ্যতা অর্জন না করবে- ততদিন পর্যন্ত এই জাতির হাহাকার শেষ হবে না।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ- একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণ করতে চায়। এজন্য দরকার আদর্শ নেতৃত্ব ও যোগ্যতা এবং দক্ষতা সমন্বিত এককাফেলা কর্মী বাহিনী।
আজকে সাহাবাওয়ালা ইলম, আমল, দাওয়াত, এমারত, কিয়াদত, সিয়াসত ও খেলাফত দরকার। কিন্তু চতুর্দিকে হাহাকার আর হাহাকার। হাহাকার আর করুণ এই সংকট দূর করতে চায়- ছাত্র জমিয়ত।