হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের।
আজ বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলাটি করা হয়। এসময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ কমপক্ষে ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় আজ মামলাটি দায়ের করা হয়।
এদিকে, আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় প্রথম পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা ও অবস্থান কর্মসূচির পর রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কের কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন এনসিপি নেতারা।
হামলার ঘটনার বিচার ও মামলার এজাহার জমা দিয়ে এনসিপি নেতারা পুনরায় মৌলভীবাজারে ফিরে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপির পক্ষ থেকে এ হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করা হয়। হামলায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হামলার সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।
এদিকে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে আজ সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
আজ এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।