সিলেটে একই দিন দুই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নগরীর কাজিরবাজার ব্রীজে ছুরিকাঘাতে কিশোর ও সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের দিঘীরপার গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ সুরমা থেকে ফুটবল খেলা শেষে ফেরার পথে কাজিরবাজার ব্রীজে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে রিফাত আহমদ (১৫) নামে এক কিশোর খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় ৩ কিশোর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যারাতে নগরের কাজিরবাজার সেলফি ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিফাত আহমদ নগরীর খাসদবির দারুস সালাম মাদরাসা সংলগ্ন বন্ধন জি-৩ বাসার মিসবাহ উদ্দিনের ছেলে ও দ্বীপ শিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র। ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন, গোয়াইনঘাটের উপরগ্রাম এলাকার মানিক হাজির ছেলে রবিউল হাসান (১৬), এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানা মজুমদারী এলাকার সাহাবুলের ছেলে সাব্বির (১৬) এবং এয়ারপোর্ট থানাধীন ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই এলাকার সামিউল (১৬)।আহতরা ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৯ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ কাজ করছে।
এসএমপির কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, নিহত কিশোরসহ ৩ জন দক্ষিণ সুরমায় ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা থেকে ফিরছিল। সেখানে হয়তো ঝামেলা হয়েছে। পথিমধ্যে সেলফি ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্তে ওই কিশোরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কিশোরটি মারা যায়। এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটি দক্ষিণ সুরমা এলাকার অধীনে। তাই ওই থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে জানতে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উজ্জামানকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, ওইদিন বিকেলে দক্ষিণ সুরমায় একটি ইনডোর স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল রিফাত। তার সহপাঠিদের সাথে সেখানে ফুটবল খেলে ফেরার পথে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত রিফাত তার বাবার একমাত্র ছেলে ছিল। হাসপাতালে নিহতের পাশে রিফাতের বাবা-মা একমাত্র বোননের বুকফাটা আর্তনাদে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।
এই ঘটনায় রিফাতের সঙ্গীয় আরো দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে তাদের অস্ত্রোপচার চলছে, বলে জানা গেছে।
এদিকে, সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের দিঘীরপার গ্রামে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. আব্দুল্লাহ (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল্লাহ দিঘীরপার গ্রামের ফারুক আহমদ বদুল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিঘীরপার গ্রামের ফারুক আহমদ বদুল্লার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মবশ্বির আলীর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিরোধপূর্ণ বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মবশ্বির আলী, শাহীন, ইমন, নাঈম, নিজামসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো রামদা নিয়ে আব্দুল্লাহর ওপর হামলা চালায়। এতে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের আরও কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে শিবেরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই আহতরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাত ৮টার দিকে আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল হাবীব বলেন, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তথ্যসূত্র: দৈনিক শ্যামল সিলেট