আজ শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাদাঘাট থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ তিন পতিতা আটক

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০২২, ০৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বাদাঘাট থেকে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ তিন পতিতা আটক

বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ তিন পেশাদার পতিতাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের কামার পট্রিতে থাকা একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদেরকে আটক করে পুলিশ।

 

আটকৃতরা হলো, উপজেলার উওর বাদাঘাট ইউনিয়নের ননাই গ্রামের পেশাদার মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী কথিত মোটরসাইকেল চালক রমজান মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী ভাসানী বেগম (৪৭), একই ইউনিয়নের জামবাগ গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী (ছদ্দনাম) নাজিয়া বেগম (২২), দিঘীরপাড় গ্রামের সোহাগ মিয়া স্ত্রী (ছদ্দনাম) রাজিয়া বেগম (২২)।

আটককৃতদের মধ্যে রমজান মিয়া তার দ্বিতীয় স্ত্রী ভাসানী বেগমকে ভাড়া বাসায় সর্দারিনীর আসনে রেখে গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে স্থানীয়ভাবে এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পতিতাদের নিয়ে এসে বাদাঘাটের ভাড়া বাসায় রেখে মাদক ও দেহ ব্যবসার হাট খুলে বসেছিল বলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে।

তাহিরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশী অভিযানে ওই তিন পেশাদার পতিতাকে আটক করা হয়।

 

থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসামাজিক কার্যকলাপের কারনে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনের দ্বীর্ঘ দিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বাদাঘাটের কামার পট্রিতে থাকা একটি ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালায়।

 

অভিযানে উপজেলার বাদাঘাট বাজারের কামার পট্রির একটি ভাড়া বাসা থেকে পতিতা সর্দারনী ভাসানী বেগম ও তার সাথে থাকা রুপ জীবিনী (ছদ্দনাম) নাজিয়া বেগম, রাজিয়া বেগমকে আটক করে। অপর একটি কক্ষে থাকা কয়েকজন খদ্দের পুলিশী অভিযানের খবর পেয়ে কৌশলে সটকে পড়ে। এরপর পুলিশী তল্লাশী চালিয়ে ওই ভাড়া বাসার খদ্দের কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উক্তোজক ট্যাবলট, কনডম, জুয়া খেলার উপকরণ কয়েক বান্ডিল তাস জব্দ করে।

আটক নাজিয়া ও রাজিয়ার জানায়, অসামাজিক কাযকলাপের অভিযোগে পুলিশী অভিযানে আটকের সময় জনসম্মুখে তারা জানায় এরা দু’জনই প্রেম পরবর্তী দ্বিতীয় বিয়ের শিকার। স্বামীরা জুয়া ও ইয়াবা আসক্ত ছিলেন সেটি তাদের পুর্বে জানা ছিলনা। এরপর গুণধর স্বামীরা জুয়া খেলা আর ইয়াবা কেনার টাকার জন্য তাদেরকে দেহ ব্যবসায় যেতে বাধ্য করে। খদ্দেরদের নিকট থেকে প্রাপ্ত টাকার অর্ধেক ভাগ রমজান ও তার স্ত্রী ভাসানী বেগম নিয়ে নিত বলের জানায় নাজিয়া-রাজিয়া।

 

আটক ভাসানী বেগম জানায়, তার স্বামী রমজান মিয়া ফোন করে খদ্দের পাঠাত এবং বিভিন্ন ভাবে পতিতাদের নিয়ে এসে ভাড়া বাসায় দেহ ব্যবসা চালিয়ে যেতে তাকে বাধ্য করেছে।

উপজেলার বাদাঘাট বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী পাড়ার লোকজন জানান, রাত দিন কামারপট্রির ভাড়া বাসায় অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন লোকজনের অবাধ যাতায়াত চিল গত দুই বছরের অধিক সময় ধরে। তাদেরকে এসব কার্যকলাপ থেকে বারবার বিরত থাকার আহবান জানানোর পর উল্টো প্রভাবশালীদের নাম ভাঙ্গিয়ে হামলা-মামলার ভয় ভীতি দেখাত রমজান ও তার স্ত্রী ভাসানী বেগম।

 

তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। এরপর আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন থানার ওসি।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১