সিলেট শহরতলীর টুলটিকরে ছেলের দায়ের কোপে চম্পা বেগম (৭৪) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুন) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত চম্পা বেগম টুলটিকরের ফুলবাগ এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।
ঘটনার পর পাষন্ড ছেলে ফারুক আহমদকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফারুক আহমদের বড় ভাই মাসুক মিয়া বাদি হয়ে মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সৌপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন।
নিহতের পরিবারের লোকজনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ১জুন বেলা সোয়া ১টার দিকে স্ত্রীকে ভাত দিতে বলেন ফারুক। ঘরে পানি না থাকার কথা বললে স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দা হাতে নেয় সে। এসময় তার স্ত্রী পানি আনতে অন্য বাসায় চলে যায়। ঘরে ছিলেন তার মা চম্পা বেগম। তিনি ছেলেকে বলেন, একটু অপেক্ষা কর, তোর জন্য ভাত এনে দিচ্ছি বলে রান্না ঘরে যান।
এমন সময় ফারুক পেছন থেকে মায়ের মাথায় দা দিয়ে কোপ দেয়। গুরুতর অবস্থায় ওইদিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেন। কিন্তু অবস্থা পুণরায় খারাপ হলে বুধবার চম্পা বেগমকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যান।
শাহপরান (র.) থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনাটি পহেলা জুন ঘটলেও বৃদ্ধার মৃত্যু হয় বৃহস্পতিবার বিকেলে।ঘটনার পর পরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক ছাড়পত্র দিয়ে দেন। অবস্থার অবনতি হলে আবারো ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন বিকেলেই সিলেট সরকারি কলেজের সামনে থেকে ফারুক আহমদকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ছেলে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করলে ওই মামলায় ফারুককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সৌপর্দ করা হয়। সে বর্তমানে কারাগারে আছে। এছাড়া ঘটনার পর ৩২৬/৩০৭ ধারায় মামলা হলেও বর্তমানে ৩০২ ধারা যুক্ত করতে আদালতে আবেদন করা হবে।
ওসি আরো বলেন, ফারক ওয়ার্কসপে কাজ করতো। পরে বেকার হয়ে পড়ে। সে স্ত্রী মনে করে মায়ের মাথায় দা দিয়ে কোপ মেরেছে, নাকি ক্ষিপ্ত হয়ে মায়ের উপরই আঘাত করেছিল, বিষয়টি স্পষ্ট নয়।