সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬–তে।
সোমবার সকাল ৮টা ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
গতকাল রোববার দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ২ এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, সাত বাংলাদেশির মৃত্যু
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন হলেন—গণ্ডগোহালী গ্রামের মো. রুবেল প্রামাণিক (বাবা: মো. সাইদুর রহমান), মো. কলিমউদ্দিন (বাবা: বজলুর প্রামাণিক), মো. মোহন ও মো. সুমন (বাবা: গুফফার প্রামাণিক), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (বাবা: মজনু) ও আবদুল জলিল, উজানপই গ্রামের ফরিদ, ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন, সাদনগর গ্রামের সাগর এবং একই উপজেলার মিনহাজ।
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুজন হলেন—দিঘীরপাড় গ্রামের শামীম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির। অপর নিহত ব্যক্তি হলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল।
বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে পরিবাবের সম্মতি অনুসারে লাশ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মর্মান্তিক এ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর শোক, আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তাঁরা নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানিয়েছেন। পরিবারগুলোর এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোকের সময়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁরা নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তসহ মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সৌদির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিচ্ছে।