filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0;
brp_mask:0;
brp_del_th:null;
brp_del_sen:null;
delta:null;
module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 2;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 40;
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনো সিলেট নগরীর প্রায় প্রতিটি সড়কে। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লার সড়ক এখন পর্যন্ত খানাখন্দে ভরা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কের খানাখন্দকে প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। তবে অধিকাংশ সড়কগুলো মেরামত না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নগরীর মিরের ময়দান থেকে কেওয়াপাড়া হয়ে মুন্সিপাড়া সড়কটি দিয়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পুলিশ লাইনসে এবং স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ব্যবহৃত হয়। অথচ এই সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পতিত হন চলাচলকারীরা।
এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমদ বলেন, ২০২২ সালের বন্যায় ভাঙা এই সড়কটি এখনো মেরামত করা হয়নি। কাউন্সিলর না থাকায় নগর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি পড়েনা সড়ক মেরামতে।
শিবগঞ্জ পয়েন্ট থেকে উপশহর রোজভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত সেই ক্ষতচিহ্নের দেখা মিলে। ওই সড়কে যাতায়াতকারীরা বলতে পারবেন- কী পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এই সড়কে এবিসি পয়েন্ট পেরিয়েই শুরু ভাঙাচোরার কারণে অধিকাংশ যানবাহন বিকল্প হিসেবে আশপাশের গলির দিয়ে চলাচল করে।
সিসিকের ২১ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত লামাপাড়া এলাকার খন্ডিকর পাড়া থেকে লামাপাড়া তোলার গুদাম পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা দেখলে মনে হয় এটি সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন কোন সড়ক। বৃষ্টি হলে সড়কগুলোর খানাখন্দক জলমগ্ন হয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটে দুর্ঘটনার পতিত হতে হয় নগরবাসীকে। সড়ক সংস্কার না করায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না, দাবি ওই এলাকার বাসিন্দাদের।
সড়ক সংস্কারে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে উল্লেখ করে বাসিন্দাদের অনেকে ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
তবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিতই সড়ক সংস্কার করা হয়। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে সবগুলো সড়কই সংস্কার করা হবে।
সিসিকের তথ্য মতে, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে মোট সড়ক আছে ২ হাজার ৫শ’ ৪৫ কিলোমিটার। এরমধ্যে পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডে সড়ক আছে ১ েহাজার ৬৫ কিলোমিটার। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে সড়ক ১ হাজার ৪৮০ কিলোমিটার। নতুন ও পুরাতন মিলিয়ে নগরীর ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে এসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই অনেক সড়কে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কে খানাখন্দক বেড়েই চলছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, নগরীর আখালিয়া নতুন বাজার সড়কটির বেহাল দশা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে আছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। ফলে মদীনা মার্কেট থেকে নতুন বাজার-শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়-টিলারগাও এলাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের দূর্ভোগের অন্ত নেই।
নগরের প্রবেশমুখ চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেন মরণফাঁদ। বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে মহাসড়কে। দীর্ঘদিন ধরে ছোট বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। ফলে দূর্ঘটনার শঙ্কাও বেড়েছে বলে জানান চালকরা। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে। অথচ এব্যাপারে উদাসীন সওজ, সড়কটি সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না, এমনটাই জানালেন চালকরা।
নগরীর লালদিঘীরপার, কালীঘাট, ওসমানী শিশু পার্কের সামনের সড়ক, শিবগঞ্জ, লামাপাড়া, শাহজালাল উপশহর, দাদাপীরের মাজারের ভেতরের সড়ক, শাহজালাল উপশহরসহ বেশ কিছু সড়কের পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কালীঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, নগরীর প্রধান পাইকারি বাণিজ্য কেন্দ্র কালিঘাট,বন্দরবাজার, লালদিঘীপার সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাইকারীবাজার হওয়ায় প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে মালামাল নিয়ে দূরপাল্লার অনেক ভারি যানবাহন চলাচল করে। যে কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সড়কটি ব্যস্ত থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে মজলিস হোটেলের সম্মুখ থেকে লালদিঘী হয়ে কালিঘাট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা নাজুক। খানাখন্দে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা দায়। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটির আরো করুণ দশা ফুটে উঠে। কদমাক্ত সড়কে হাটাচলা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। কালিঘাট থেকে ক্বীন ব্রিজের সড়কেরও একই অবস্থা। অধিকাংশ গর্তে পানি জমে থাকে। ফলে চলাচল মুশকিল হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সড়কের খারাপ অবস্থা ব্যবসার উপরও প্রভাব ফেলছে।
একইভাবে সড়কের বেহাল দশা জেল রোড পয়েন্ট থেকে ওসমানী শিশু পার্ক ও মিরাবাজার থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত। আবার শিবগঞ্জ থেকে টিলাগড় পয়েন্ট পর্যন্ত বেশকিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমসি কলেজ, সরকারি কলেজসহ এই সড়ক মাড়িয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাতেও যেতে হয়। যে কারণে সড়কটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। যদিও এই সড়কটি সওজের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই সড়কটি সংস্কারে উদাসীন বলে অভিযোগ এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের।
নগরের রায়নগর দাদাপীর মাজার থেকে শাহী ঈদগাহ সড়কটি একেবারেই চলাচলের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্তে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা দায়। খানাখন্দের জায়গা দিয়ে গাড়ি ধীরে ধীরে চলাচল না করলে উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয়। অনেক সময় গাড়ি উল্টে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু এসব সড়কই নয়, সিটি কর্পোরেশনের। প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোর অবস্থাও এমন। মাসের পর মাস মানুষ কষ্ট করছেন, দুর্ভোগে পড়ছেন। তবুও সংস্কার হচ্ছে না সড়কগুলো।
লালদিঘীরপাড় হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী শাহজাহান বলেন, সড়ক ভাঙা ও খানাখন্দে ভরপুর থাকায় ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলে ভোগান্তি বেড়ে যায়। বৃষ্টির দিন ব্যবসায় লালবাতি জলে উঠে।
মোটর সাইকেলে যাতায়াতকারী রায়হান বলেন, আমরা শিবগঞ্জ থেকে নতুন ব্রিজ, হুমায়ুন রশীদ চত্বরে যেতে হলে উপশহর দিয়ে যেতে অনেক দুর্ভোগে পড়ি। ভাঙাচোরা থেকে গাড়ি বাঁচাতে বিভিন্ন অলিগলির পথ বেছে নিই।
শিবগঞ্জের রিকশা চালক আলামিন বলেন, লামাপাড়া ও উপশহর এলাকায় রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। গর্তের কারণে অনেক সময় রিকশার চাকা, বিয়ারিংও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন’র প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আলী আকবর এর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নগরীর সড়কগুলোতে ২০২২ সালের বন্যার ক্ষত এখনো বিদ্যমান আছে স্বীকার করে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, সিটির কর্পোরেশনের যেসব সড়ক ভাঙাচোরা রয়েছে, তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত আমরা ইমার্জেন্সি রিপিয়ারিংয়ের কাজ শুরু করব।
তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনেক সড়ক রয়েছে। সওজের যেসব সড়ক ভাঙাচোরা, তা দ্রুত সংস্কার করতে সওজকে বলা হবে।