আজ ,

প্রবাসী আলেম-সাংবাদিকের যে দু’টি বই বদলে দিতে পারে সমাজ

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১, ০২:৫৫ অপরাহ্ণ
প্রবাসী আলেম-সাংবাদিকের যে দু’টি বই বদলে দিতে পারে সমাজ

একটি জীর্ণ-শীর্ণ, গুনে ধরা সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার হচ্ছে তার ‘বুনিয়াদি শিক্ষা’। কথায় আছে-সে জাতি বেশী টেকসই যে জাতির আছে সুশিক্ষা।

মুসলিম জাতির বুনিয়াদি শিক্ষার মেইন প্লাটফর্ম হলো মসজিদভিত্তিক শিক্ষা। আলিফ বা তা ছা আর কালিমা থেকে শুরু হওয়া সেই হেরাগুহার দীপ্ত আলোকবর্তিতা সম্পন্ন শিক্ষাই একটি মানুষকে তার আচরণ শুধরাতে সাহায্য করে। পরিচয় লাভ করিয়ে দিতে সক্ষম হয় তার খালিক, মালিক, রাজ্জাক মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে।

এমনইভাবে ঘটে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন। আর জাতিকে এমন দু’টি মূল্যবান বই উপহার দিয়েছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী তরুণ আলেম, লেখক-সাংবাদিক ও সংগঠক মাওলানা রশীদ আহমদ।

‘কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা’ ও ‘মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ বইদুটি আজ সকল বয়সের পাঠকের কাছে সমাদৃত হতে চলেছে।

সিলেটসহ দেশবিদেশের নামকরা লাইব্রেরিতে পাওয়া যাচ্ছে বই দু’টি। সিলেটের পাণ্ডুলিপি প্রকাশন’র নিউইয়র্কের মুক্তধারাসহ অন্যান্য লাইব্রেরিতে বইগুলো পাওয়া যাবে।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই লেখক ইয়র্ক বাংলা ম্যাগাজিনের সম্পাদক, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাইটার্স ফোরাম অফ নর্থ আমেরিকা ইনক এর সাধারণ সম্পাদক। দ্বীনের একজন সক্রিয় দা’ঈ এবং মসজিদভিত্তিক সমাজবিনির্মাণে নিবেদিতপ্রাণ এই সমাজকর্মী ১৯৭৭ সালে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার মানাউরা গ্রামের সন্তান। তার পিতা উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.) এর সুযোগ্য ছাত্র, উত্তর সিলেটের বরেণ্য আলেমে দীন, মাওলানা মো. আব্দুল মতীন। যিনি ‘বড় হুজুর’ নামে সর্বমহলে পরিচিত এবং মাতা মোছাম্মৎ হালিমা খাতুন।

নিজ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনি কৃতিত্বের সাথে শেষ করে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের জামেয়া মুশাহিদিয়া খাগাইল মাদ্রাসায় মাওলানা রশীদ আহমদের দ্বীনি শিক্ষার হাতেখড়ি। এ ধারাবাহিকতায় কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদিস সমাপন করেন। পাশাপাশি আঙ্গারজুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম, ফাজিল ও কামিল ফিল হাদিসও কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।

নিউইয়র্কে আসার প্রথম দিকে তিনি সিটি কলেজ অফ টেকনোলজিতে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। বর্তমানে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি কলেজে ‘আমেরিকান জার্নাল অফ হিউম্যানিটিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’ নিয়ে অধ্যয়ন করছেন। তিনি নব্বইয়ের দশক থেকে যুক্ত হন সিলেটে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সাথে। সিলেট শহরে অবস্থানকালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতাও করেন। ২০০৭ সালে প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর নিউইয়র্কে গত এক যুগেরও বেশি সময় লেখালেখির পাশাপাশি বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কে বিএমএমসিসি ইসলামিক স্কুল, ব্রুকলিন-এর প্রিন্সিপাল।

‘কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামের বুনিয়াদি শিক্ষা’ মাওলানা রশীদ আহমদ-এর প্রথম গ্রন্থ। ‘মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। প্রথম গ্রন্থটিতে লেখক ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সহজ-বোধগম্য ভাষায় বুনিয়াদি শিক্ষার পাঁচটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন, যা প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য খুবই। এই গ্রন্থটিকে লেখক পাঁচটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করেছেন। মুসলিমদের দৈনন্দিন জীবনের সব কাজে ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য। একজন ঈমানদারের জন্য দীনি শিক্ষার বিকল্প নেই। এই গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমে মুসলিম নর-নারীদের মধ্যে দীনি জ্ঞানচর্চা ও আল্লাহ তাআলার ভীতি সৃষ্টিতে লেখক আশাবাদী।

দ্বিতীয় বই ‘মসজিদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা’ গ্রন্থটিতে মসজিদকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ রূপদানের চেষ্টা করেছেন। সেখানে ইসলামের প্রাথমিক যুগে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা, দাওয়াতি কার্যক্রম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক,বিচারসালিশসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যাবতীয় কর্ম সম্পাদন করা হতো মসজিদ থেকে। সেই মসজিদে নববীর আলোকে বর্তমান মসজিদগুলোকে ঢেলে সাজানোর রূপরেখা গ্রন্থটিতে তুলে ধরেছেন। মসজিদের ইমামদের পরিচিতি, যোগ্যতা, দক্ষতা পাশাপাশি তাদের সামাজিক অবস্থান, করণীয় ও বর্জনীয় কাজসমূহ সম্পূর্ণ রূপে তুলে ধরেছেন।

গ্রন্থ দু’টিতে লেখক অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তথ্য ও তত্ত্বের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন। লেখকের বিষয়বস্ত নির্বাচন এবং লেখনির ধারা খুবই সময়োপযোগী। বাংলাভাষি পাঠকদের জন্য বই দুইটি বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। গ্রন্থগুলোতে সমকালীন বাস্তবতায় পাঠকদের জন্য ইসলামের মৌলিকজ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে এবং জ্ঞানের জগতের মৌখিক চিন্তাধারাকে জাগ্রত করবে।