আজ ,

এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখন ‘অভিশাপ’

[ppsp_buttons]
এম এ কাদির, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
এক কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখন ‘অভিশাপ’

গর্তে জমে থাকা পানিতে নষ্ট হচ্ছে ইউনিফর্ম। সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা।

পিচ্ছিল মেঠোপথে যাতায়াতে দুর্ভোগকে সঙ্গী করে কাটছে এখানকার বাসিন্দাদের জীবন। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গ্রামের সবার জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে এক কিলোমিটারের কাঁচা সড়কটি।

বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের চরআলাপুর বড় মোকাম থেকে সিলেট-সুলতানপুর সড়কের গহরপুর ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কঘীরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।

মাত্র এক কিলোমিটার সড়ক পাঁকা না হওয়ায় দুর্ভোগ যেনো পিছু ছাড়ছে না। বর্ষা আর বৃষ্টি হলে মেঠোপথ পিচ্ছিল হয়ে ঘটে নানা অঘটন।

সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।ফলে চলাচলের অনুপযোগী এই সড়কে চরম বিপাকে পড়েন থাকেন স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি এলাকার মানুষজনের দৈনন্দিন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সংস্কারের অভাবে সড়কটির এই বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভঙ্গুর এই সড়কের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগীদের নিয়ে।

স্থানীয় সমাজকর্মী সিতাব আলী বলেন, সড়কটি আমাদের জীবনের অংশ হয়ে পড়েছে। বেহাল দশার এই রাস্তা এখন দুর্ভোগের মূল কারণ। তিনি সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, অল্পবৃষ্টি হলেই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়।

ইউনুছ আলী বলেন, এই সড়কের কারণে বর্ষাকালে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এতদিন কাঁচা থাকা দুঃখজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির আহমদ ও সাদিক আলী বলেন, কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে যেতে আমরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ি। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন ঠিকমতো চলতে পারে না। প্রায় এক কিলোমিটার ঘুরে রোগী নিয়ে যেতে হয়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি চাই।

তারা আরও বলেন, সড়কটি পাকাকরণ হলে চরআলাপুর, সুলতানপুরসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।

সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেদেওয়ান বাজার ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান নাজমুল আলম বলেন, সম্প্রতি রাস্তার একটি অংশে মাটি ভরাটের কাজ করানো হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার এই রাস্তা পাকাকরণ করা হলে ৩-৪টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে।