সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ সমাজের বোঝা নন; বরং যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পেলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে ‘হিউম্যান কেয়ার’ সংগঠন আয়োজিত ‘স্পেশাল অ্যাবিলিটি সামিট- ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের পরিবার এই সমাজে একা নয়। সরকার ও সমাজ সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছে। অনেক অভিভাবক দুশ্চিন্তা করেন যে তাদের অবর্তমানে সন্তানদের কে দেখবে? এই উদ্বেগ দূর করতে সরকার প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রগুলোকে প্রতিটি উপজেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সুসজ্জিত মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সেবায় আরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে এদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। হিউম্যান কেয়ারের এই মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সরকার এ ধরনের সংগঠনকে কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক ও অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী এবং প্রখ্যাত সমাজসেবক ড. রাগীব আলী।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান কেয়ার সংগঠনের উপদেষ্টা শামা হক চৌধুরী, সায়মা সুলতানা চৌধুরী লিনাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।