মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে নতুন করে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। বিদ্যমান খাতের পাশাপাশি নতুন আরও চারটি খাতে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার।
দেশের পাঁচটি নির্দিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে প্রশিক্ষিত কর্মীদের নেবে দেশটি। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডিং সেক্টরে কর্মী নিতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে কাতার।
সোমবার বাংলাদেশ-কাতার সপ্তম যৌথ কমিটির বৈঠকে এমন আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে আগ্রহের কথা জানান কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররি। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটি জানানো হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত খালেদা জিয়ার জরুরি চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোয় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কাতারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় শ্রমবাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে চার লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কাতারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রাখছেন। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী কাতারে গেছেন। চলতি বছর কাতার কর্তৃপক্ষ এর দ্বিগুণ কর্মী নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে কাতারগামী কর্মীদের জন্য বর্তমানে ঢাকায় মাত্র একটি ভিসা ও মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্বল্প সময়ে ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে কাতারের ভিসা সেন্টার ও মেডিক্যাল সেন্টার স্থাপনের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান মন্ত্রী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন ১১০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বৈদেশিক কর্মসংস্থান–সংশ্লিষ্ট ৫৫টি ট্রেডে মানসম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক কাতারের চলমান উন্নয়নযজ্ঞে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্স, কেয়ারগিভার, ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।
কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররি বাংলাদেশের কর্মীদের কর্মদক্ষতার প্রশংসা করে জানান, বর্তমানে কাতারে প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ উন্নয়ন খাতে এবং অন্যরা অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত। তিনি আরও বলেন, কাতারে অদক্ষ কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে ইতিমধ্যে দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় শহরে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন।
যৌথ কমিটির এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত আলি মাহদি সাঈদ আল-কাহতানি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।