আসন্ন কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে চোরাইপথে ইন্ডিয়ান গরু সিলেটে আনার উৎসব চলছে সর্বত্র। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারত থেকে অবাদে আসছে গরু-মহিষের চালান। এতে চোরাচালানি ও অবৈধ পন্থায় আনা গরু ব্যাপারিরা লাভবান হলেও বিপাকে পড়ছেন স্থানীয় খামারিরা। যারা সারা বছর গরু লালন-পালন করেন লাভের আশায়। কিন্তু এই ঈদে কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন খামারিরা। তাদের আশা ম্লান হচ্ছে ভারতীয় চোরাই গরু-মহিষের চালান বাজারে আসায়।
স্থানীয় প্রভাবশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সীমান্ত পেরিয়ে নির্বিঘ্নে আসছে গরু-মহিষের চালান। সীমান্ত পেরিয়ে আসা পশুর চালান সিলেট হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের অন্যান্য জেলায়।
ভারতীয় গরু-মহিষের চোরাচালান রোধে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। নগরের প্রবেশদ্বারগুলোতে বসানো চেকপোস্ট ও সিসি ক্যামেরা। কিন্তু চোরাই পণ্য ও পশু বহনকারী ট্রাক-পিকআপ চেকপোস্ট দিয়ে অবাদে পার হয়ে যাচ্ছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনকৃত চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও চোরাই পণ্য আটকাতে তাদের কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত পথ এখন চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্য। চোরাই পথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসা গরু-মহিষের চালান রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শত শত ট্রাকে ঢুকছে নগরীতে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের দাবি, পুলিশের চেকপোস্টের সামনে দিয়েই এসব পশুবাহি ট্রাক-পিকআপ অতিক্রম করলেও ইশারায় যেনো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের যোগসাজস থাকায় উপর মহলের ভয়ে সাধারণ মানুষও এ নিয়ে কথা বলতে সাহস করেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে বাজার পর্যন্ত চোরাচালানি চক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি। ঈদের খুশি যখন দুয়ারে, তখন সিলেটের খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
এদিকে, ভারতীয় পশু চালান অবাদে প্রবেশ করায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিলেটের প্রান্তিক হাজারো খামারিরা। বছরজুড়ে ধার-দেনা করে পশু লালন-পালন করার পর, এখন ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা চরম সংশয়ে আছেন তারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে রাইসুল মিয়া নামের এক খামারি বলেন, পুরো বছর কষ্ট করে না খেয়ে গরুর পেছনে টাকা ব্যয় করি লাভের আশায়। কিন্তু ভারতীয় গরু বাজার সয়লাব হওয়ায় আসল টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি।
আমিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দেশি গরুর খামার করি। সারা বছর পেলেপোষে গরু বড় করলাম। এখন লাভের মুখ দেখা দায় হয়ে পড়বে ভারতীয় গরু-মহিলের বাজার সয়লাভ হওয়ার কারণে।
কেবল খামারিরাই যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নয়, লোকসানের শঙ্কায় আছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫টিসহ জেলার অর্ধশতাধিক পশুর হাটের ইজারাদাররা।
তারা জানিয়েছেন, অবৈধ পশুর কারণে বৈধ হাটে ক্রেতা কমছে। রাজস্ব আদায়ও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, খামারি ও ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত থেকে শুরু করে পশুর হাট পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান নজরদারি এখন সময়ের দাবি।
সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, চোরাচালান দমনে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: শ্যামল সিলেট