নগরীর শিবগঞ্জ থেকে বন্দর কিংবা জিন্দাবাজার যেতে আগে যেখানে প্রায় ৪০ মিনিট লেগে যেতো। হকারমুক্ত সড়কে সেখানে এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটে যাওয়া যায় নির্বিঘ্নে।
ভাড়ায় মোটরবাইকে করে যাত্রী সেবাদানকারী রায়হান নামের যুবক এভাবেই বলছেন সময় ও দুর্ভোগহীন ভাবে নগরীতে চলাচলের কথা।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দরবাজার, চৌহাট্রা, জিন্দাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পথচারীরা চলছেন বাঁধাহীনভাবে ফুটপাত ধরে। কোথাও নেই ভাসমান ব্যবসার পসরা। মার্কেট-শপিংমল বা দোকানপাটের সামনে নেই ঠেলা-ভ্যানগাড়ী কিংবা টেবিলে করে রাস্তায় ব্যবসা। সড়কের শৃঙ্খলায় একাধিক পুলিশকে কোর্টপয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
চারদিকটা খোলামেলা, প্রশস্ত, উন্মুক্ত সড়ক। এ যেনো নতুন এক সিলেট।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মেনে সিলেট নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে দিয়েছেন হকাররা। রোববার থেকে নগরীর প্রধান সড়কগুলো হকারমুক্ত করা হয়। ফলে, নগরীতে এখন অন্যরকম আবহ। দখলমুক্ত সড়ক ও ফুটপাতের ফলে যানজটও কমে গেছে অনেকটা। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। এই অবস্থা অব্যাহত রাখার দাবি জানেয়েছেন তারা।
সিলেট মহানগর পুলিশ ও সিসিক কর্তৃপক্ষ সড়কে দফায় দফায় অভিযান করতে দেখা যায়।
এছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে বন্দরবাজারে ফুটপাতে অবৈধ পার্কিং ও দখলমুক্ত রাখতে প্রচার মাইকিংও করা হচ্ছে।
এদিকে, নগরীর যানজট নিরসন ও সড়ক-ফুটপাত হকারমুক্ত করার লক্ষ্যে লালদিঘিরপাড়ে অস্থায়ী হকার শেড তৈরি করে দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। ভ্রাম্যমাণ হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত অস্থায়ী বাজারে কোনোরকম ভাড়া ছাড়াই ব্যবসার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে হকাররা এখানে আসতে শুরু করেছেন। রোববার থেকে হকাররা তাদের পসরা দিয়ে হকার শেডে বসতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার একইভাবে এই শেডে ব্যবসায়ীরা নিজেদের পসরা নিয়ে বসার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
নগরভবনের ঠিক পেছনে লালদিঘির পাড় মাঠে নতুন দশটি গলিতে ইট, বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে নির্মিত অস্থায়ী শেডে ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে নতুন রাস্তা ও ড্রেন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে টয়লেটও। বাজারে প্রবেশের জন্য রয়েছে তিনটি প্রবেশপথ। কাঁচা বাজার, মাছ বাজার, কাপড়ের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসার জন্য সাইনবোর্ড টানিয়ে স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সিসিকের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। হকারদের সচেতন করতে সিসিক ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ প্রচার কাজ চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজার, লামাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার ও তালতলা এলাকায় ফুটপাত ও সড়কে হকারদের দেখা মিলেনি।
কুদরত উল্লাহ মার্কেটের ব্যবসায়ী তাহের হুসেন বলেন, হকারমুক্ত হওয়ায় সবেচেয়ে বেশী খুশী আমরা ব্যবসায়ীরা। আমাদের সময় এখন নষ্ট হচ্ছে না। ভোগান্তি কমে গেছে। তাছাড়া যারা কেনাকাটার আসছেন তারাও অনায়াসে মার্কেটে প্রবেশ করতে পারছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরী যানজটমুক্ত করতে এবং সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের নির্বিঘ্ন চলাচলের স্বার্থে আমরা ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য লালদিঘির পাড়ে অস্থায়ী শেড তৈরি করে দিয়েছি। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আশা করি এখন হকাররা নগরীর রাস্তা ও ফুটপাত ছেড়ে লালদিঘিরপাড়ে চলে আসবেন।
আমরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো ভাড়াও নিচ্ছি না। কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, লালদিঘির পাড় মাঠে হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাইকে সেখানে চলে যেতে হবে। নগরের ব্যস্ততম এলাকার সড়কে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। বসলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এর ফলে নগরবাসীর হাটাচলায়ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছিল।