বরিশালে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগীতা নিয়েছেন ইয়াছিন খান (৪১) নামে এক চোর। গণপিটুনি থেকে বাঁচতে তিনি পুলিশের এই সহযোগীতা নেন।
তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইয়াছিন খান ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা। কিন্তু তিনি বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
এখান থেকেই তিনি বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের এআরখান বাজার এলাকায় চুরি করতে গিয়ে এ কাণ্ড ঘটান। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ধরা পরে গেলে স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হতে পারেন এই ভয় থেকে ওই ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে কল করে সহায়তা চান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন বন্ধ একটি দোকানের মধ্য থেকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তখন জানান পেশায় তিনি চোর।
ওসি বলেন, ভোরে জরুরী সেবা থেকে আমাদের কাছে তথ্য আসে চরকাউয়া ইউনিয়নের এআরখান বাজার এলাকায় বিপদে পড়েছেন এক ব্যক্তি। ওই ব্যাক্তি জরুরী সেবার কনফারেন্সের মাধ্যমে থানার ডিউটি অফিসারের সাথেও কথা বলেছেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। শেষে মোবাইলে কল করে জানা যায় সে ঝন্টু মিয়ার দোকানের মধ্যে। দোকান থেকে বের হতে তার অসুবিধা কোথায় জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যদের ইয়াছিন খাঁ বলেন, চুরির মালামাল গুছিয়ে ব্যাগ ভর্তি করতে তার বেশি সময় লেগেছে। সময় গড়িয়ে সকাল হয়ে গেছে। লোকজন দোকানের পাশে অবস্থান করছিলো। এ অবস্থায় সেখান থেকে বের হলে মারধরের শিকার হতো।
এজন্য বুদ্ধি করে ৯৯৯ নম্বরে কল করেছে। দোকান মালিক ঝন্টু বলেন, পুলিশ আমার দোকানের কাছে আসলেও কিছুই অনুমান করতে পারিনি। পরে তার মধ্য থেকে একজনকে বের করায় বুঝতে পারি চোর ধরেছে।
পরে জানি ওই চোর ৯৯৯ নম্বরে কল করে সহায়তা চেয়েছে। তিনি বলেন, দোকানের মালামাল যায়নি কিছুই। তবে সবকিছু এলোমেলো করে রেখেছে। ভালো ভালো জিনিস ব্যাগে ভরেছিল। কিন্তু নিতে পারেনি।
চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, জেনেছি ৯৯৯ নম্বরে কল করে নিজেকে ধরা পরার হাত থেকে বাঁচিয়েছে এক চোর। এই ঘটনা এখন সবখানে আলোচনা হচ্ছে। যে শুনছে সেই অবাক হচ্ছে।