আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। এক তাৎপর্যময় দিন। ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহম্মদ সা.’র প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন রা.’র আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হৃদয়বিদারক স্মৃতিবিজড়িত এই দিন।
শুধু কারবালার সেই বিয়োগান্তক কাহিনীর জন্যই নয়, ১০ মহররম আরো অনেকগুলো কারণে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ। ইসলাম ধর্মমতে পৃথিবী সৃষ্টির সূচনা এই দিনে, কেয়ামত বা মহাপ্রলয়ও হবে এই একই দিনে।
এই পবিত্র দিনে জন্ম নিয়েছিলেন প্রায় ২ হাজার পয়গাম্বর যাদের ফরিয়াদ বিভিন্ন সময় আল্লাহ কবুল করেছিলেন। এই দিনে আদি পিতা হযরত আদমের আ. তওবা কবুল হয়েছিল। হযরত আইউব আ. মুক্তি পেয়েছিলেন কঠিন ব্যাধি থেকে।
হযরত ইউনুস আ. উদ্ধার পেয়েছিলেন মাছের উদর থেকে। মুসা আ. ও তাঁর সঙ্গীরা রেহাই পেয়েছিলেন ফেরাউনের দুঃশাসন থেকে। তবে হযরত ইমাম হোসেন রা.-এর সপরিবারে শাহাদাতবরণের ঘটনা ১০ মহররমকে দিয়েছে বিশেষ মাত্রা, বিশেষ মহিমা।
বাংলাদেশেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়। এদিন সরকারি ছুটি। মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে হোসনি দালান ইমামবাড়া হতে শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেন (র:)-কে কারবালা-প্রান্তরে হত্যার স্মরণে মুসলমান সম্প্রদায় বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায় মহরম মাসে তাজিয়া মিছিল বের করে। এদিকে, তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে ইমামবাড়া এবং আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সদা তৎপর রয়েছেন।