আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন বাকী পবিত্র ঈদুল আজহার। কিন্তু এখনো কুরবানীর পশুর হাট স্থাপন, বিপনী বিতানের প্রস্তুতিসহ অন্যান্য নানা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
বিয়ানীবাজারে বন্যার কারণে কোথাও ঈদুল আযহা নিয়ে নেই কোন তোড়জোড়। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলায় থমকে আছে কুরবানীর ঈদের প্রস্তুতি।
জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে কমপক্ষে ১৫ দিন আগে থেকেই উপজেলাজুড়ে শুরু হয়ে যেতো কুরবানীর প্রস্তুতি। গেল ২ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে কুরবানীর পশুর হাট বসার কথা থাকলেও শেষ সময়ে সর্বত্র ছিল পশু বেচাকেনার হুড়োহুড়ি। তবে বন্যার কারণে বিয়ানীবাজারে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
জানা গেছে, উপজেলায় এবার পৌরশহরের পিএইচজি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠসহ আরো দু’টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর চিন্তা ছিল প্রশাসনের। কিন্তু বন্যার অথৈ পানি সবকিছু এলামেলো করে দিয়েছে।
খামারী ও কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, এখানকার গোচারণভূমি এখনও পানিতে নিমজ্জিত। ফলে গবাদিপশু নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তারা। মানুষের যেখানে বাঁচা দায়, সেখানে গোখাদ্য সংকট কীভাবে কাটাবেন, সেই ভাবনায় রয়েছেন অনেকে। তবে অনেক এলাকায় কচুরিপানা খাইয়ে গবাদিপশুকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আযহায় বিয়ানীবাজারের প্রায় ১৪টির মত পশুর হাট জমবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কিত ক্রেতা বিক্রেতা।
তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় তলিয়ে আছে চারন ভূমি। আর অতিবৃষ্টি ও বন্যার নষ্ট হয়েছে খড়। এ অবস্থায় নিজেদের খাবার জোটানোর পাশাপাশি গো-খাদ্যের জোগান দেয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হলেও তা এখনও কৃষকের কাছে পৌছায়নি। উপজেলার পূর্ব মুড়িয়া, আলীনগর, চারখাই, শেওলা ও দুবাগ ইউনিয়নের বেশীর ভাগ গরু লালনপালন করেন। এসব গবাদি পশু প্রতিপালনে খোলা মাঠে বেঁধে ঘাস খাওয়ানো হয়। এভাবে দুগ্ধগাভী লালনপালন ও গরু মোটাতাজা করে থাকেন কৃষকরা। কিন্তু চলতি বছরে ৩ দফা বন্যায় পানিতে তলিয়ে রয়েছে মাঠ-ঘাট। ফলে গবাদি পশুর দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব। তারা এসব গরু বাঁচানো নিয়ে আছেন দু:শ্চিন্তায়।
এদিকে বন্যায় বিকিকিনি কম হবে এমন আশঙ্কা থেকে বিপনী বিতানের মালিকরাও পছন্দের পণ্য সংগ্রহ করছেননা। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এমন সময়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কাপড়, জুতা, কমমেটিকস, মুদি পণ্যসহ নানা ধরণের সামগ্রী কিনতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েন। এবার ব্যবসায়ীরা সে ঝূঁিক নিচ্ছেননা বলে জানা গেছে।
পৌরশহরের রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী কাওছার আহমদ জানান, এমন সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসতো। কিন্তু বন্যার পানির কারণে তাদের আসা যাওয়া না থাকায় ঈদের রেশ নেই। বস্ত্র ব্যবসায়ী মহসিন বাবু বলেন, ঈদুল আযহায় নতুন পোষাক কালেকশনের জন্য আমাদের লোক ঢাকায় বসে থাকতো। এবার কাউকে পাঠাইনি।
স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে গিয়ে জানা যায়, প্রবাস থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণা এখনো অনেক কম। এমন সময়ে রেমিট্যান্স নিতে ব্যাংকগুলোতে উপচেপড়া ভিড় থাকলেও সরজমিন কোন ব্যাংকেই তা লক্ষ করা যায়নি।
বিয়ানীবাজার ব্যবসায়ী সংকট নিরসন কমিটির সদস্য সচিব নজরুল হোসেন জানান, বন্যায় বিপর্যস্থ এতদঞ্চলের মানুষ। এরপরও আশা করি ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য জমে ওঠবে।