আজ বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘পুলিশ অখলর হায়াত দেউক্কা আল্লায়’

প্রকাশিত জুন ২১, ২০২২, ০২:৪৬ অপরাহ্ণ
‘পুলিশ অখলর হায়াত দেউক্কা আল্লায়’

বাড়ি-ঘর পানির নিচে।কোনো মতে ওখান আইয়া জাগা(জায়গায়)পাইছি।কেউ ইকানো(এখানে) কুন্তা নিয়া আয় না।চাইরদিন ধরি ইস্কুল আইছি। কোনো রকম হুকনা(শুকনা) খানি খাইয়া আছি।আজকে পুলিশে খানি(খাবার)লইয়া আইছইন অও খাইমু।অতো কষ্ট করি আমরার লাগি নিয়া আইছইন।

আল্লাহ পুলিশ ভাই হক্কল’র(সবার)হায়াত দেউক্কা দোয়া করি।এখনো ভালা পুলিশ আছইন।এভাবে আবেগে আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ৯নংওয়ার্ডের গর্দ্দনা গ্রামের পচাত্তর বছরের বৃদ্ধা খাদিজ বেগম।

সোমবার (২০) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো.লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বন্যার্ত ৫শ মানুষের মাঝে রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করা হয়।

জানা যায়,সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন থানা এলাকায় অনাহারি বন্যাদুর্গতদের মধ্যে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে জেলা পুলিশের একাধিক টিম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইঞ্জিন চালিত একটি নৌকা নিয়ে পুলিশের বেশ কিছু সদস্য বৃষ্টি উপেক্ষা করে খাবার নিয়ে হাজির জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকার ছুটে যাচ্ছেন। খাজার মোকাম উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র এবং পূর্ব ও পশ্চিম গর্দ্দনা গ্রামে কয়েক শতাধিক বানভাসি মানুষের কাছেই গেলে অশ্রুসিক্ত মুখে খাবার পেয়ে হাসির ঝিলিক দেখা যায়।খাবার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা শিশু থেকে বৃদ্ধরা।

খাবার বিতরণে গিয়ে শিশুদের মন জয় করে নেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।এক মুহূর্তের জন্য ফিরে যান শৈশবে। বন্যা এলাকায় একটি দোকান থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক পেকেট পটেটো চিপস নিয়ে সেগুলো শিশুদের মধ্যে বিতরণ করেন।আর সেগুলো পেয়ে শিশুরাও বেশ খুশি ছিলো।

খাবার বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন,কানাইঘাট সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আব্দুল করিম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (উত্তর) অফিসার ইনচার্জ রেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী,জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি গোলাম দস্তগীর।

এব্যাপারে কথা হলে সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো.লুৎফুর রহমান বলেন,সমাজের সকল শ্রেণির মানু এখন প্রায় বন্যা কবলিত। তাদের কাছে চাল-ডালের চেয়ে রান্না করা খাবার এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ সকল এলাকার বেশিরভাগ মানুষই গত কয়েক দিন থেকে না খেয়ে আছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ সব মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালানোর জন্য। আমরা আমাদের দায়িত্বটুকু পালন করছি মাত্র আর কিছু না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম-বার’র নির্দেশে বাংলাদেশ পুলিশ সিলেট জেলার বানবাসি মানুষের পাশে আছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলা পুলিশের এমন মানবিক কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত থাকবে।

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০