আজ ,

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে কৌশলী প্রচারণায় প্রার্থীরা, ভোটে চাঙ্গা তিন উপজেলা

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ৩০, ২০২১, ০১:১৬ অপরাহ্ণ
সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে কৌশলী প্রচারণায় প্রার্থীরা, ভোটে চাঙ্গা তিন উপজেলা

আর চারদিন পরই সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন।ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কৌশলী প্রচারণাও তুঙ্গে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন প্রার্থীরা।নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ পরিলক্ষিত হলেও ভোটাররা কিন্তু নিরব।ভোট নিয়ে তাদের মাঝে কোনো আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

দক্ষিণসুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩আসন। সিলেট নগরী ঘেষা এ আসনে কয়েক দফা পিছিয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণের দিন চূড়ান্ত হয়েছে। এ আসনের উপনির্বাচন ভোট গ্রহণ হবে ইভিএমে ।

এই উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদ্যাবহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লড়াইয়ে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক। এ ছাড়া ডাব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের নেতা জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া।

লকডাউন চলাকালে কিছুদিন প্রচার বন্ধ থাকলেও এখন আবার মাঠে নেমেছেন প্রধান তিন প্রার্থী। তবে জুনায়েদ মুহাম্মদকে দেখা যাচ্ছে না প্রচারে।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাল্লাও ভারী হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান বলেছেন, ভোট চোরদের প্রতিহত করতে সাধারণ জনগণ এবার কেন্দ্র পাহারা দেবে।

তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আতিকের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আতিকের অভিযোগকে অমূলক আখ্যায়িত করে হাবিব বলেন, এখন পর্যন্ত আতিকুর রহমান আতিক বা কোনো প্রার্থীর প্রচারে কেউ বাধা দেয়নি। তারা বরং নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে প্রচার চালাচ্ছেন।

দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকায় মতবিনিময় সভায় ২২ আগস্ট আতিক বলেন, কোনো অপকৌশলেই লাঙ্গলের গণজোয়ার থামানো যাবে না। লাঙ্গলের পক্ষে এবার সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে। হুমকি-ধমকিতে মানুষ ভয় পায় না, ভোট চোরদের প্রতিহত করতে এবার কেন্দ্র পাহারা দেবেন সাধারণ জনগণ।

তিনি বলেন, মানুষ এবার দল-মত ভুলে লাঙ্গলকে বিজয়ী করতে চায়। মানুষের এই গণজোয়ার ঠেকাতে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, তা কাজে আসবে না।

এরপর মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দক্ষিণ সুরমার দাউদপুরে আয়োজিত আরেকটি মতবিনিময় সভায় একই সুরে বক্তব্য দেন আতিক।

সেখানে তিনি বলেন, লাঙলের জোয়ার দেখে একটি মহল ভয় পেয়েছে। তারা ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচনে জিততে চায়।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে আতিক বলেন, ‘একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে ভোটের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনুন। সামনে অনেক নির্বাচন আসছে। উপনির্বাচন সুষ্ঠু হলে সেসব নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে উৎসাহ পাবে।’

কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন সভায় এমন শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন তিনি। এই শঙ্কার ব্যাপারে জানতে একাধিকবার আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রতিদিনই নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। কেবল আওয়ামী লীগের নয়, দলটির অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারাও প্রতিদিন আসছেন।

তারা জানান, একটি উপনির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন তৎপরতা আগে কখনো দেখা যায়নি। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই উপনির্বাচনে যে কোনও মূল্যে জয়ী হতে মরিয়া আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া অতীতের নির্বাচনগুলোও এমন শঙ্কা জাগাচ্ছে।

উচ্চ আদালতের আদেশে ভোট স্থগিত হওয়ার আগে গত ২৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেও এমন অভিযোগ করেছিলেন আতিক। সেদিন তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ প্রচারে বাধা দিচ্ছে, ভয় দেখানোর পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরীও। তিনি বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোর কারণেই জনমনে এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকেই এই শঙ্কা দূর করতে হবে।

তবে এমন শঙ্কা অমূলক দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরাও একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই।

‘নৌকার পক্ষে জনমত দেখে আতিক খামাখা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি জনগণের সঙ্গে নেই। শুধু অভিযোগ করায় আছেন।’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, কোনো প্রার্থী সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের ১১ মার্চ সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী মারা যান। ১৫ মার্চ তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর ৯০ দিন পেছানো হয় এবং ২৮ জুলাই ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৮ জুলাইয়ের উপ-নির্বাচন স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করে।

এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার।