দেশে ভোটের ময়দানে মিথ আছে-❝সিলেট-১ আসন থেকে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে থাকে।❞ অতীতে এমন নজিরও দেশবাসী দেখেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাঢোল বাজছে। প্রায় প্রতিটি দলও তাদের নিজস্ব প্রার্থী ঠিক করে ফেলেছেন। সিলেটের ১৯টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আসন সিলেট-১।
দেশবিখ্যাদ রাজনীতিকদের চোখও থাকে এ আসনের দিকে। এরপরও অনেকেরই ভাগ্যে জুটে না আসনটির টিকিট। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এখন পর্যন্ত বিএনপি ছাড়া সব রাজনৈতিক দলই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলটির চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তবে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ইতোমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান। এই আসনটিতে ইসলামীদলগুলোর একক প্রার্থী প্রচারণা চালিয়ে নিজনিজ অবস্থান থেকে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুই মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন আরিফুল হক চৌধুরী। সেসময় তার উন্নয়ন কর্মকান্ড বেশ প্রশংসিত হয়। নগরে আরিফের ব্যাপক জনপ্রিয়তাও রয়ছে। সাম্প্রতিক সিলেটের নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় থেকেও প্রশংসিত হয়েছেন আরিফ।
অপরদিকে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। যদিও সে নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। তবে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। দলেও তার অবস্থান ভালো।
জনশ্রুতি রয়েছে দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে খন্দকার মুক্তাদিরের ভালো সম্পর্ক। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানিয়েছেন, সিলেট-১ আসনে তারা যোগ্য প্রার্থীই মনোনয়ন দিয়েছে। সিলেটের মানুষ তাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। রাজপথের প্রচারণার পাশাপাশি তারা ঘরে ঘরে গিয়ে দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লার দাওয়াত পৌঁছে দিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, সিলেটে তাদের ভোট বাড়ছে। আগাম প্রচারণায় নামায় যেদিকেই যাচ্ছেন জনগণের সাড়া পাচ্ছেন।
এদিকে, সিলেট-১ আসনে জমিয়ত থেকে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, খেলাফত মজলিস থেকে সিনিয়র নেতা মাওলানা তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দলের সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল ফখরুল ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের একাংশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী। সিলেটে ভোটের মাঠ মূলত জমিয়ে রেখেছেন বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের প্রাথমিক প্রচারণায় লোক সমাগমে ধারে-কাছেও কেউ নেই। বিএনপি’র প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের কাছেও আগ্রহ বেশি। প্রচারণায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন জামায়াতের প্রার্থী। তার কর্মীবাহিনী নগরের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ভোটারের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।