সিলেট প্রশাসনের ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা বলেন, এই সিদ্ধান্তে সিলেটের প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষ রুটি-রুজির সংকটে পড়েছে।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, ‘২৪’ র গণঅভ্যুত্থানে রিকশা চালকরা দেশের গণমানুষের পাশে ছিলেন। অথচ আজ তাদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
নগরীর সৌন্দর্য গড়তে ক্ষুধার্ত শ্রমিকদের জীবিকা ধ্বংস করা অমানবিক ‘
নেতারা জানান, ব্যাটারিচালিত যানবাহন পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী।
প্রায় ৭০ লক্ষ পরিবারের জীবিকা এই বাহনের ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে সিলেটেই রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক। তারা বলেন, এই যানবাহন কোনো নিষিদ্ধ পরিবহন নয়, বরং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মহাসড়ক ছাড়া অন্য সড়কে চলাচলের অধিকার রয়েছে।
সংগঠনটি বিআরটিএ কর্তৃক নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্স প্রদানের দাবি জানায়। তারা বলেন, “আধুনিকায়নের নামে লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, অথচ দেশীয় ওয়ার্কশপে কম খরচে মানসম্মত যান তৈরি সম্ভব।”
১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে; যানবাহন জব্দ ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, জরিপের মাধ্যমে বৈধ মালিক নির্ধারণ, শ্রমিকদের মুক্তি, ও রিকশা শ্রমিকদের নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
সংগঠনটি ঘোষণা দেয়, ২৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্টে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড আব্দুল্লাহ ক্বাফি রতনসহ জাতীয় ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের নেতারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, ‘শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা রক্ষায় যুক্তিযুক্ত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, অন্যথায় এই সিদ্ধান্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ডেকে আনবে।’