সিলেটে অনলাইনে ‘সুরক্ষা’ সরকারি ওয়েসসাইটে ঢুকে করোনার ভ্যাকসিনের জন্য সপ্তাহ, দশ, পনেরো দিন আগে নিবন্ধন করেও টিকাগ্রহণে আগ্রহীরা পাচ্ছেন না এসএমএস।
কেউ বলছে অনলাইনের পূরণ করা ওই ফরম প্রিন্ট করে টিকা কেন্দ্রে গেলে দিতে পারবেন টিকা। আবার কেউ বলছে না এসএমএম না আসা পর্যন্ত যাবে না টিকা দেওয়া।
অনেকেই জানালেন, নিবন্ধনের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এসএমএস পাননি তারা। এসএমএস না পেলেও গত কদিন থেকেই সিলেট নগরীর সব কটি টিকা কেন্দ্রে সড়ক পর্যন্ত লাইন। রোদ বৃষ্টিতে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। টিকা নিতে কেন্দে আসা বয়স্করা যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
একজন নারী উদ্যোক্তা জানান, গত বছর জুলাই মাসে পরিবারের সব সদস্য আক্রান্ত হন। গত মাসে তিনি টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু নিবন্ধনের এক মাস হয়ে এলেও কোনো এসএমএস পাননি। করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় সুরক্ষা টিকা পেতে নিবন্ধনকারীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এসএমএস বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষমাণ তালিকা।
সূত্র জানায় সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৭৫ হাজারেরও লোক টিকার জন্য নিবন্ধন করে এখন এসএমের অপেক্ষায়। রেজিস্ট্রেশনের ২০ দিন পার হলেও এখনো অনেকেই কোনো এসএমএস পাননি।
একজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা জানালেন তিনি ১৮ জুলাই রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু এখানো এসএমএস পাননি। টিকা পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রায় সবাই উদ্বিগ্ন। তবে বয়স্ক ও অধিকতর ঝুঁকিতে যারা আছেন, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। সূত্র জানায় এসএমএস জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনই ঘুরছেন টিকা কেন্দ্রে । তাতেও কোনো লাভ হয়নি। এই জটিলতার কারণে উচ্চশিক্ষার্থে অনেকেই আবেদন করতে পারছেন না।
সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীতে বর্তমানে ৭৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই নতুন করে নিবন্ধন হচ্ছে। তাই এসএমএস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, যে হারে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে নিবন্ধন হচ্ছে।
ডা. জাহিদুল জানান, সিলেট নগরীর টিকাকেন্দ্র ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ হাজার জনের বেশি লোককে টিকার আওতায় আনা সম্ভব নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রশ্নে। এর মধ্যে নতুন নিবন্ধিত ৬০০ জনকে রাখা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তারপরও অনেকেই এসএমএস না পেয়ে কেন্দ্রে যাচ্ছেন, তাদেরও আমরা টিকার ব্যবস্থা করছি।
একই সঙ্গে প্রথম দিকে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদেরও টিকার আওতায় আনছি। তিনি নিবন্ধিতদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন। আগামী ১৩ তারিখ থেকে মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হচ্ছে জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, আমরা চাচ্ছি, সিলেট নগরে নতুন করে আরও কিছু কেন্দ্র বাড়াতে। এজন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।