আজ ,

সিলেটে মেয়েকে ধ.র্ষ.ণে.র অভিযোগ করায় বাবাকে কুপিয়ে খু/ন

সিলেটের বার্তা ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে মেয়েকে ধ.র্ষ.ণে.র অভিযোগ করায় বাবাকে কুপিয়ে খু/ন

গোয়াইনঘাটে আপন ভাতিজা কর্তৃক মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় অভিযোগ অভিযোগ দেওয়ায় আপন বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে প্রাণ হারান ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাবা কলিম উল্লাহ (৫০)।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত কলিম উল্লাহ দিঘিরপার গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে কলিম উল্লাহর বড় মেয়েকে (১৮) নিজ ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে তার বড় ভাই সয়ফুল্লাহর ছেলে জুবের আহমদ (২০)। এ ঘটনায় জুবের আহমদকে স্থানীয় লোকজন হাতেনাতে আটক করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের উদ্যোগে বুধবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের দিন-তারিখ নির্ধারণ করে জুবের আহমদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সালিশের দিনক্ষণ সামনে রেখে ধর্ষণের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সয়ফুল্লাহ তার ছেলে জুবের আহমদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত গ্রামে বিয়ে ঠিক করে শুক্রবার রাতেই আকদ সম্পন্ন করে ফেলেন।

এদিকে, বিচার না পেয়ে শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন কলিম উল্লাহ। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরপরই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল থানার এসআই নাঈমুলকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ওই এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত জুবের আহমদ ও তার বাবা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা করেন। অতর্কিত হামলায় সয়ফুল্লাহর দায়ের কোপ কলিম উল্লাহর গলার বাঁ পাশে লাগলে তিনি গুরুতর জখম হন। স্থানীয় লোকজন কলিম উল্লাহকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কলিম উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিতে করেছেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল। তিনি বলেন, ‘পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আক্রমণকারী সয়ফুল্লাহের এক ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করেছে। জড়িত অন্যান্যদের আটকে পুলিশের অভিযান চলছে।’