আকাশে রমাদ্বান মাসের চাঁদ উঁকি দেওয়ার সাথে সাথে বিদায় নিয়েছে আরবি মাস শাবান। বছর ঘুরে আবারো মাহে রমাদ্বানের আগমন। মসজিদে কোরআন খতমের মাধ্যমে তারাবিহ সালাত আদায়, সেহরি খেয়ে রোজা রাখা এবং দিন শেষে পরিবার পরিজন নিয়ে ইফতার করতে পারাটাই পরম শান্তির। আর পবিত্র রমাদ্বান মাস ইবাদত বন্দেগি করে ব্যস্ত সময় পার করেন মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা।
কিন্তু রোজার মাসে মুসলিম উম্মাহ সালাত আদায়, সেহরি ও ইফতারের সময়ে বিদ্যুৎ বিড়ম্বনায় না ভোগেন। তাই এবার নাগরিকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। এরমধ্য দিয়ে স্বস্থির খবর পেলেন নাগরিকরা। অতিরিক্ত গরম না বাড়লেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
শীতের তুলনায় গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকে নগরজীবনে। ফলে শীতকালে ততোটা লোডশেডিং না থাকলেও গরমে নাগরিকদের মারাত্বক ভোগান্তির শিকার হতে হয় লোডশেডিংয়ে।
রমাদ্বানের মধ্যভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকে। বিপনীবিতানসহ গোটা নগরীর মার্কেটগুলোকে করা হয় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা। তার উপর গরমের প্রভাবে অফিস আদালত এবং বাসা বাড়িতে ফ্যান, এসি, ফ্রিজসহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সামগ্রির ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
এর ফলে দৈনিক চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হয়। যা জাতীয় গ্রীড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের তুলনায় কম হওয়ায় লোডশেডিংয়ে বাধ্যহতে হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে।
পবিত্র রমজান মাসে সেহরী ইফতার ও তারাবির সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
তারা জানান, খুটিনাটি বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও যান্ত্রিক ত্রুটি এগুলো হচ্ছে দুর্ঘটনা। অন্যথায় মাহে রমদ্বানে বিদ্যুৎ বিভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক। বিদ্যুৎ বিভাগ বলেছেন শুধু সেহরী তারাবীহ ও ইফতার নয় ২৪ ঘন্টা যেনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে আমাদের এই প্রচেষ্ঠাই অব্যাহত থাকবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদির প্রলেন, বর্তমানে প্রতিদিন নগরীতে ১৬০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা রয়েছে। জাতীয় গ্রীড থেকে যা আমরা নিয়মিত পাচ্ছি। গরম বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যায়। ২০০ মেঘাওয়াট পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা প্রয়েছে। তবে এর বাইরে চাহিদা বাড়লে লোডশেডিংয়ের দ্বারস্থ হতে হয়।
এছাড়াও জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকল্পনার ওপরও অনেকটা নির্ভর করছে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন সমস্যা নেই। বুধবার তারাবির নামাজের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সিয়াম-সাধন এর পবিত্র মাস মাজে রামাদ্বান। মহান আল্লাহ তাআলার অপার করুণায় তাঁরই নান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে মুসলমানগণ এ মাসে দিনভর রোজা পালন করে মসজিদের মিনার থেকে আযান শুনার সাথে সাথে খেজুর, মিষ্টি জাতীয়দ্রব্য আর ভান্ডা পানীয় দ্বারা ইফতার করে দিনের শেষে মহান আল্লাহ তাআলার আরেকটি হুকুম পালনের মাধ্যমে আত্মার তৃপ্তি মেটান। দীর্ঘ সময় রোজা পালন করে সন্ধ্যার সময় একটু তৃপ্তির সাথে ইফতার করতে গিয়ে যদি দেখা যায় বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা তবে সর্বস্থরের মুসল্লিগণ পড়বেন চরম দূর্ভোগে।
প্রাকৃতিক দূর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া বা যান্ত্রিক কোন গোলযোগ না হলে সেহরি-ইফতার ও তারাবি নয় ২৪ ঘন্টা গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় বিভাগ সিলেট অফিস।
সিলেটের প্রায় ৫ লাখ গ্রাহকদের ১৫০-২০০ মেগাওয়াট চাহিদা পূরণের সক্ষমতা প্রয়েছে বলেও জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও গ্রাহকরা যেন স্বস্তিতে থাকতে পারেন। পাশাপাশি মুসল্লিরা বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে সেহরি-ইফতারও তারাবি আদায় করতে পারেন।
সেহরি-ইফতারও তারাবির সময়ে যাতে কোন প্রকার সমস্যা দেখা না দেয় এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ সদা সচেতন রয়েছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিদ্যুতের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদির। এছাড়াও সেহরি-ইফতারও তারাবির সময়ে পৃথক টিম সর্বদা মাঠে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভাই সেহরী-ইফতার ও তারাবী এ তিনটি সময়ে আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থ প্রাখতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।