বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগ কর্তৃক সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব’।
মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে শাবি প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক জুবায়েদুল হক রবিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
শাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লা আল মাসুদ এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, বাকৃবিতে সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছি। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ।
এ হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি যা কোনভাবেই কাম্য নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৭ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে র্যাগিংয়ের ঘটনা সমাধান করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা অপদস্থ ও অবরুদ্ধের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. রিজওয়ানুল হক (কনক)।
এসময় ওই হলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রথমে হেনস্তার শিকার হন ঢাকা পোস্টের বাকৃবি প্রতিনিধি মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর, দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার বাকৃবি প্রতিনিধি ইফতে খারুল ইসলাম সৈকত এবং ক্যাম্পাস লাইভ ২৪ ডট কমের বাকৃবি প্রতিনিধি রায়হান আবিদ। এরপর বাকৃবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা করা হয়।
বিষয়টি সুরাহা হলেও পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সাংবাদিকেরা শাহজালাল হল থেকে নিজ নিজ হলের উদ্দেশ্যে বের হলে শাহজালাল হলের নাজমুল শাকিলের প্রকাশ্য মদদে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ওই হলের ৮ থেকে ১০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী শহীদ শামসুল হক হলের সামনে এসে হেনস্তার শিকার হওয়া ওই ৩ সাংবাদিকসহ দৈনিক এশিয়ান এইজ পত্রিকার বাকৃবি প্রতিনিধি আতিকুর রহমানের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ওই হামলায় সরাসরি যুক্ত ছিল শাহজালাল হল ছাত্রলীগের উপ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হৃদয় খান (কুতুব), দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ ইকবাল, জিসান মাহমুদ ও মো. নাঈম উদ্দিন। পরে আহত সাংবাদিকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হামলার সময় ক্যাম্পাস লাইভ ২৪ ডট কমের বাকৃবি প্রতিনিধি রায়হান আবিদের সাইকেল ও মোবাইল ভাঙচুর করে তারা। আহত ওই চার জন সাংবাদিকদের পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।